টঙ্গীতে শিশু গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতন, স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২১ | আপডেট: ৯:৪০:অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২১

গাজীপুরের টঙ্গীতে ফারজানা আক্তার মিম (৯) নামের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন এবং তার স্ত্রী জেসমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এরা টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় আবু শাকেরের বাড়ির ভাড়াটে দম্পতি। দেলোয়ার মিলগেট এলাকায় পরিবহন (ট্রাক) ভাড়া দেয়ার ব্যবসা করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার এস আই উত্তম কুমার সূত্রধর জানান, মিম গৃহকর্মী হিসাবে ওই দম্পতির কাছে ছিলো। প্রাথমিকভাবে মিমের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দেলোয়ার দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারজানাা নোয়াখালীর জেলার সোনাইমুড়ি থানার বাজরা গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমানের মেয়ে ।

আনিসুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় এ ব্যাপাওে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিত্বে এ দম্পতিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকা ফারজানা আক্তার মিমের কপালে ৭টি সেলাইয়ের চিহ্ন থাককে দেখা গেছে। এছাড়াও ডান হাতের কব্জির উপরে ভাঙার পর একটু বেকে গেছে। ঘাড়ের কাছে মারধরের চোটে কালো জখম। একইভাবে কোমরে ও কালো জখম। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোপ ছোপ কালো জখম।

ফারজানার পিতা আনিসুর রহমান জানান, দেলোয়ার দম্পতি মিমকে দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যাচার করে আসছিলো। কাঠ দিয়ে বেধরক পিটিয়েছে। কিছুদিন আগে কাঠের আঘাতে কপালে গভীর ভাবে জখম হয়। পরে ৭ টি সেলাই দেয়া হয়েছে। তাছাড়া শিশু বাচ্চার গোপনাঙ্গসহ শরীরে অমানবিক নির্যাতনের চিহ্ন আছে। তিনি আরও জানান, সে সিএনজি চালায়। করোনার কারনে দুই মেয়ে নিয়ে সংসারে অভাবের কারনে গত ১ বছর ৩ মাস পূর্বে তাদের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মেয়ে মিমকে এ দম্পতির কাছে দেন। তিনি নিজে আসেননি। সে সময় বলা হয়েছিলো মিমকে তাদের মেয়ের মত রাখবে।

দেলোয়ারের সমবয়সী মেয়ের খেলার সঙ্গী হিসাবে থাকবে। বিনিময়ে তিনি কোন টাকা পয়সাও নেননি। মিমকে স্কুলেও ভর্তি করানোর কথা। শারিরী নির্যাতনের সাথে সাথে খাবারেও কষ্ট দিয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের পরদিন তার শালি(স্ত্রীর বোন) ঝর্ণার কাছে মিমকে দিয়ে আসে দেলোয়ার। তখন মিমের শরীরের এইসব চিহ্ন দেখে নির্যাতনের বিষয় জানতে পারেন। একে একে মিম সব কিছু বলে। মেয়ের খোজ খবর নিতে দেলোয়ারকে মোবাইলে কল দিলেও তিনি কখনো কোন উত্তর দিতেননা।

জিএমপি টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো শাহ আলম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটির কপাল ঘাড় ও কোমড়ে অমানবিক নির্যাতনের জখম রয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া চলছে।