টাকার অভাবে শেষকৃত্য না করেই মাটিচাপা দেওয়া হলো ৬ জনকে

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০ | আপডেট: ৮:২০:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০
স্বজনদের আহাজারি

টাকার অভাবে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের নাগরপুরের একটি পরিবারের ছয় সদস্যের শেষকৃত্য না করে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভাদ্রা গ্রামের নিহতদের নিজ বাড়ির আঙিনায় মাটি চাপা দেওয়া হয়।

গতকাল শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ-দৌলতপুর সড়কের দৌলতপুর উপজেলার মুলকান্দি গ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার ছয় যাত্রী ও চালক নিহত হয়। নিহত অটোরিকশার যাত্রীদের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা গ্রামে। তারা সকলে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও একই পরিবারের সদস্য।

নিহতরা হলেন, হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার (৫৫), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দর স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৪), চাচি খুশি বাদ্যকার (৫২) ও চাচাত ভাই রামপ্রসাদ বাদ্যকার (৩০)। এছাড়াও নিহত হয় অটোরিকশার চালক জামাল শেখ (৩০)। জামাল শেখের বাড়ি মানিকগঞ্জে।

মধ্যরাতে লাশগুলো গ্রামের বাড়ি আনা হয়। তখন ওই বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করে। সেখানে শোক নেমে আসে। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে শেষকৃত্য করে লাশগুলো মাটি চাপা দেওয়া হয়।

সকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর প্রমুখ ওই বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান। ওই গ্রামের বাসিন্দা সুরেশ বলেন, এ ঘটনায় দুঃখ জানানোর ভাষা তাদের জানা নেই। তারা হতবাক, গভীরভাবে মর্মাহত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল সর্দার বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) ডায়রিয়া হয় হরেকৃষ্ণের নাতি রাধে বাদ্যকারের। শুক্রবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় ওই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন মারা যায়।

তিনি বলেন, ‘হরেকৃষ্ণ বাদ্যকারের পরিবার খুব গরিব। একসঙ্গে ছয়টি লাশ দাহ করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হবে। এতও টাকা ওই পরিবারের নেই। তাই ওই পরিবারের সকলের সম্মতিতে শেষকৃত্য করে লাশগুলো মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করা হবে।

নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ হরেকৃষ্ণ বাদ্যকারের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, রামপ্রসাদ বাদ্যকারের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা এবং মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামাল শেখের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।