টাকা নিয়ে আসামিকে ছেড়ে দিয়ে মিথ্যা মামলায় ১ বছরের শিশুসহ নারীকে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০১:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

এনামুল হক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাদক না পেয়ে এক নারীকে পিস্তল দিয়ে ফাঁসিয়ে তার এক বছরের শিশু সন্তান সহ গ্রেপ্তার করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনকি একই পরিবারের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলেও ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার ওই পরিবারের লোক জন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যসের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে। যদিও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রেমচরণ জোত সীমান্ত এলাকার মৃত মখলেছুর রহমানের ছেলে লিটনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের খাতায় লিটন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

এ সময় পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এস আই মাহবুবুর রহমান, সিপাই আব্দুর রহমান, সিপাই খায়রুল ইসলাম এবং ওয়ারলেস অপারেটর মামুনুর রশিদসহ ৪ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। লিটন বাড়িতে না থাকায় ঘর তল্লাসী শুরু করে তারা। লিটনের ভাই খাজা ময়নউদ্দিনকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন তারা।

এসময় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ময়নউদ্দিনকে ঘরে নিয়ে গিয়ে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবী করে। পরে ময়নউদ্দিনের স্ত্রী ৪৫ হাজার এবং স্থানীয় ব্যাক্তি ওমর ফারুক ৫ হাজার টাকা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের হাতে দেয়। টাকা পেয়ে ময়নউদ্দিনকে ছেড়ে দিয়ে তার ভাই মূল আসামী লিটনকে খুঁজতে শুরু করেন তারা। এসময় ঘরে লিটনের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম শিশু সন্তানকে দুধ খাওয়াচ্ছিল।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ঝর্ণা বেগম কে তার ঘরে আটক করে। এসময় তারা জানায় যে ঝর্ণা বেগমের কাছে পিস্তল পাওয়া গেছে। পরে তাকে তেঁতুলিয়া থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে ও তার স্বামীকে আসামী করে অস্ত্র আইনে মামলা দেয়া হয়।

মাদক মামলার আসামী লিটনের ভাই মানিক মিঞা জানায় মা ও লিটন দুজনই অসুস্থতার কারণে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে বেশ কয়েক দিন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে রোববার বাড়ি ফিরেন। সোমবার আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়।

মঙ্গলবার গ্রেপ্তার ঝর্না বেগমকে তার এক বছরের মেয়ে সহ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। নিরাপরাধ শিশুটি কান্না করছিল। আমার আরেক ভাই ময়নুদ্দিনকে প্রথমে আটক করে।পওে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা নেয়। লিটন গাজা খায় এটা সত্যি কিন্তু তার বউ কোন অপরাধ করেনি। লিটনকে নিয়ে গেলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।

আমার আরেক ভাই নিরাপরাধ। তাকে জোড় করে আটক করার ভয় দেখিয়ে টাকাও নিয়েছে। এক বছরের শিশুটির কি অপরাধ। আমার ভাইয়েরা কখনো অস্ত্রের সাথে যুক্ত নয়। এই ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করা হোক।

অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বিকার করেছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। তারা জানায় মাদক দ্রব্য মামলায় চিহ্ণিত আসামী লিটনকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার স্ত্রীকে ঘরে পিস্তল সহ আটক করা হয়েছে। সাড়ে ৯ ইঞ্চি লম্বা এই ওয়ান শুটার গান টি হাতে বানানো এবং পুরোনো মরিচা ধরা। এছাড়া অন্য কাওকে আটক বা টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।

পঞ্চগড় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান জানান, এসব অভিযোগ মিথ্যা। লিটন তালিকা ভূক্ত মাদকের আসামী। আমরা তাকে আটক করতে গিয়েছি। এসময় তার স্ত্রীর কোমরে পিস্তলটি পাওয়া যায়। অস্ত্র সহ পাওয়া গেছে বলে লিটনের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার শিশুটি এখনো মায়ের দুধ খায় বলে তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। অন্য কাওকে আটক করা হয়নি। টাকা নেয়ার অভিযোগটি সাজানো।