টার্কি পালনে সফল রাজবাড়ি জেলার কুদ্দুস আলম

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

টিবিটি দেশজুড়েঃ একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সকলেই চিনতো রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুদ্দুস আলমকে। সাংবাদিকতায় ও আর্ট পেশায় বেশ নাম ছিল তার। এখন তাকে সবাই চিনে টার্কি কুদ্দুস হিসেবে গোয়ালন্দের গণ্ডি পেরিয়ে তার টার্কি মুরগি রপ্তানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এই টার্কি মুরগি পালনে সফলতা এনেছেন তিনি।

কুদ্দুস আলম যে প্রতিষ্ঠানের সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করতেন গত বছরের মার্চ মাসে সেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হাতে লেখা ব্যানার ফেস্টুনের কাজ না থাকায় ডিজিটাল ব্যানার ফেস্টুন হওয়ার পর হতাশায় দিন পার করছিলেন তিনি। কি করবেন ? কিভাবে সংসার চালাবেন ? এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছিলেন তিনি।

কুদ্দুস আলমের সফলতা বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, বড় ছেলে রাজবাড়ি সরকারি কলেজে পড়া শোনা করে পাশাপাশি কম্পিউটারের উপর বেশ দক্ষতা রয়েছে তার। বাবার হতাশা আর দুশ্চিন্তা দেখে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করতে করতে সন্ধান পান টার্কি মুরগি পালনের।

ছেলের পরামর্শ পেয়ে গত বছরের আগস্ট মাসে মাত্র ৬০টি টার্কি মুরগি, মুরগি পালনের ঘর মেরামতসহ দেড় লাখ টাকার মুনাফা নিয়ে শুরু। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রথম তিন মাসেই লাভের মুখ দেখেন তিনি।

খামারের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে তার খামারে বাচ্চা টার্কি মুরগির সংখ্যা রয়েছে ৫০০টি। যার প্রতি জোরা বিক্রি হবে ৫০০ টাকা দরে। বড় টার্কি রয়েছে ৫০৬টি যার প্রতিটির ওজন ৮ থেকে ৯ কেজি করে। মাঝারি ধরনের টার্কি আছে ২৫০টি। সব মিলিয়ে এক হাজারের উপরে টার্কি মুরগি রয়েছে তার। এর মধ্যে প্রতিদিন ৬০টি মুরগি ডিম দিচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা করে। বর্তমানে তিনি টার্কি মুরগির মাংস বিক্রি করছেন সাড়ে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়াও তার মুরগি পালনে দুটি বড় শেড ( ঘন ) বাচ্চা পালনে একটি ছোট শেড রয়েছে। সব মিলিয়ে তার এখন মূলধন দারিয়ে ১২ লাখ টাকার উপরে।

কুদ্দুস আলমের মাসিক আয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন প্রতিমাসে কম করে হলেও এক লাখ টাকার টার্কি মুরগি বিক্রি করেন তিনি। এর থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়। বর্ষা মৌসুম হওয়াতে লাভ একটু কম হচ্ছে, কারণ এখন মুরগির খাদ্য ঘাস সংকট। যে কারণে খাওয়াতে হচ্ছে ফিড খাবার। প্রতি ( ৫০ কেজি ) বস্তা ফিড কিনতে হচ্ছে ২৩ শত টাকা হিসেবে।

টার্কি মুরগির বাচ্চা কোথায় বিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার খামারের পাশেই রয়েছে গোয়ালন্দ হ্যাচারি। সেখান থেকে বাচ্চা ফুটানোর পর খামারেই রেখে দেই, সেই বাচ্চা, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলার খামারিয়া মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কিনে নিয়ে যায়।

কুদ্দুস আলমের সফলতার পিছনে কার সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণা বেশি জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের কথা।

কথা হয় নাসিমা আক্তারের সঙ্গে। যিনি কিনা সব সময় টার্কির খামার দেখা শোনা করেন। টার্কি পালন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো টার্কি মুরগির খামার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও ভ্যাকসিন প্রদান করা। সময় মত ভ্যাকসিন প্রদান করলে এবং সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে লোকসানের কোন কারণ নেই।

টার্কি মুরগির খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ জাতীয় মুরগি বেশি পছন্দ করে ঘাস ও সবজি। বেশি খেয়ে থাকে পাতা কপি ও লাউ। প্রতিদিন মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ করে খাওয়ানো হয় টার্কিগুলোকে। তাছাড়া টার্কি মুরগিকে খাওয়ানোর জন্য খামারের পাশে রোপণ করা হয়েছে নেপিয়ার জাতীয় ঘাস।

টার্কি খামারি নাসির মাহমুদ ইভান জানান, এক সময় খুব কষ্টে কেটেছে আমাদের সংসার। বর্তমানে ভালোভাবে কাটছে দিন। পড়াশোনার পাশাপাশি টার্কি মুরগির দেখাশোনা করি বাবাকে একটু সহযোগিতা করি।

কুদ্দুস আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয় টার্কি পালনে আর কি পদ্ধতি অবলম্বন করলে আরো বেশি লাভবান হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তিনি জানান, সবাই বলে কম সুদে লোনের কথা আমি তার উল্টো বলবো, কারণ লোনের কোন দরকার নেই সবচেয়ে বেশি দরকার বাজার তৈরি করা। সরকার যদি টার্কি মুরগির বাজার তৈরি করে দেয় তবে বাংলাদেশের অনেক বেকার যুবক সফলতা নিয়ে আসতে পারবে।

কুদ্দুস আলমের সফলতা দেখে উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে টার্কি মুরগি পালন। এরই মধ্যে উপজেলার অনেক বেকার যুবক গড়ে তুলেছেন টার্কি মুরগির খামার।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, টার্কি পালন এখন একটি লাভজনক ব্যবসা। গোয়ালন্দ উপজেলার দেওয়ানপারা এলাকার আজগর আলী মণ্ডলের ছেলে কুদ্দুস আলম একজন সফল টার্কি খামারি, আমি তার খামারটি পরিদর্শন করেছি।

এছাড়াও রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা থেকে টার্কি পালন বিষয়ে জানতে খামারিরা আসছে। যারা আগে থেকে শুরু করেছে তারা এখন খুব খুশি। টার্কি মুরগি পালনে জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় থেকে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।