ট্রাকের শিকলে ঝুলে ঢাকার পথে নারী গার্মেন্টস কর্মী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০ | আপডেট: ১০:৪০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০
ছবি: সংগৃহীত

করোনা মোকাবেলায় সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিলেও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কেউ অটো রিকসা, সিএনজি, পিকআপ ট্রাকভর্তি মানুষ।

কেউ বা আবার ট্রাকের শিকলে ঝুলে সবার গন্তব্য ঢাকা। অথচ, করোনা মোকাবেলায় সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। বলা হয়েছে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে চলতে, অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হতে। কিন্তু যারা বের হচ্ছেন, তারা যেনো নিরুপায়।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দিনভর ময়মনসিংহ পাটগুদাম ব্রীজ মোড় থেকে মানুষের ঢল নামে শিকারীকান্দা বাইপাস পর্যন্ত। কয়েক কিলোমিটার হেটেও পাচ্ছেন না গাড়ি। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ছুটছেন মালবাহী ট্রাকে করে। হালুয়াঘাট গাজীভিটা এলাকার তামির আলী জানান, আমি আশুলিয়া একটি এনিওতে চাকরি করি। কাল থেকে খোলা। না যেতে পারলে হয়ত হয়তো বেতন পাবো না।

হালুয়াঘাটের গার্মেন্টস শ্রমিক সাইদুল ইসলাম জানান, ২৬ তারিখ বন্ধ দিছিলো। খেতে না পারলে ভাইরাস ছাড়াই তো মারা যাবো। নেত্রকোণার দুর্গাপুর এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক শাহানাজ আক্তার জানান, অফিস খোলা যেতেই হবে, গাড়ি না পেলেও হেঁটে যেতে হবে। পরিবারতো চালাতে হবে। সকাল ৬টা থেকে শুধু হাটতেছি।

এদিকে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার ময়মনসিংহ নেত্রকোনার আঞ্চলিক সড়কের স্বপ্নার মোড় নামক স্থানে সিএনজিতে করে কয়েকজন গার্মেন্টস কর্মী নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ আসছিলেন। সিএনজি শম্ভুগঞ্জের স্বপ্নার মোড়ে আসলে বিপরিত দিক থেকে আসা বালু বোঝাই ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সাইফুল ইসলাম মারা যায়। পরে আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে নাজমা আক্তার নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, যানবাহন বন্ধ থাকায় আমাদের এবং শ্রমিকদের ক্ষতি হলেও আমরা সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহন বন্ধ রেখেছি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত যানবাহন বন্ধ থাকবে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেন, সরকারী নির্দেশনা অনুসারে সীমিত অনুসারে কিছু বন্ধ দিলেও কিছু গার্মেন্টস চলছে। আবার কিছু গার্মেন্টস আগামীকাল থেকে খোলা। প্রয়োজনের তাগিদেই গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকা যাচ্ছে। তবে, যানবাহন বন্ধ থাকায় তাদের কিছুটা ভুগান্তি হচ্ছে। আমরা যতটুকু পারছি তাদের সহযোগীতা করছি। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৫ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল নিট গার্মেন্টস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বিকেএমইএ। শনিবার (৪ এপ্রিল) থেকে আবার নিট গার্মেন্টস খোলা হওয়ায় ঢাকার দিকে ছুটছে শ্রমিকরা।

সুত্র: বিডি২৪লাইভ