ঠাকুরগাঁওয়ে বিরল প্রজাতির নীলগাই উদ্ধার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৫:০৭:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

ঠাকুরগাঁও জেলা সদর ও রানীশংকৈল উপজেলার সীমান্তে কুলিক নদীতে পারাপার হওয়ার সময় একটি নীলগাই আটক করেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে যদুয়ারে জাহিদের বাড়িতে নিয়ে রাখা হয় নীলগাইটিকে।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টারি দিকে সদর উপজেলার পটুয়া এলাকায় পথচারীরা নীলগাইটিকে ধাওয়া দিলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৌড়ে যদুয়ার কুলিক নদী পারাপারের সময় নদীতে জাহিদ, বুধু, মকবুলসহ অর্ধ শতাধিক এলাকাবাসী পানিতে নীলগাইটিকে আটকের চেষ্টা করলে বুধু ও মকবুল আহত হয়। পরে অনেক কষ্টে নীলগাইটিকে উদ্ধার করে দ্রুত নাক ফড়িয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে তারা।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

জাহিদের ভাই আবু বক্কর কোন অবস্থাতেই নীলগাইটিকে হস্তান্তর করতে না চাইলে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা উদ্ধার স্থানে উপস্থিত হয়ে তাকে বুঝিয়ে নীলগাইটি উদ্ধার করে জাতীয় উদ্যানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে নীলগাইটিকে যদুয়ার এলাকা থেকে উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় উদ্যানে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নীলগাই উদ্ধারকারী জাহিদ বলেন, দ্রুতগতিতে আসা নীলগাইটি যদুয়ার এলাকায় কুলিক নদীর পানিতে পরে গেলে কয়েকজন মিলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখি।

দীর্ঘদিন ধরে থাকা জঙ্গলের মালিক সদর উপজেলার পটুয়া ফকদনপুর এলাকার আকরাম বলেন, নীলগাইটি প্রায় ৩-৪ মাস ধরে ভুট্টা ক্ষেতে ছিল। এখন ভুট্টা না থাকায় আমার জঙ্গলে ও আঁখ ক্ষেতে বসবাস করছিল। জঙ্গলের পাশে ধান ফসল নষ্ট করার সময় আজ কয়েকজন মিলে নীলগাইটিকে ধাওয়া দিলে নীলগাইটি পালিয়ে যায়।

ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে নীলগাইটি দিনাজপুর জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে নীলগাইটিকে রাখা হয়েছে। নীলগাইটির যেন কোন প্রকার সমস্যা না হয় সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

ঠাকুরাগাঁও জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান বলেন, নীলগাইটি এলাকাবাসী আটক করার সময় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় উদ্ধারকৃত নীলগাইটি চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। নীলগাইটি সুস্থ্য হলে কোথায় পাঠালে ভাল হয় বন বিভাগের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নীলগাইটি ৩-৪ মাস ধরে সদর উপজেলার রহিমানপুর পটুয়া এলাকায় বসবাস করছিল। স্থানীয়দের ধারণা নীলগাইটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এলাবাসীর ফসল নষ্ট করলে পাহারা দিয়ে নীলগাই চিনতে পারে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও কোন ভাবে নীলগাইটিকে আটক করতে পারেনি এলাকাবাসী।

নীলগাইটির ওলান থেকে আঠা ও পেটে হাত দিয়ে বাচ্চার মত নরাচড়া দেখে নীলগাইটি গর্ভবতী বলে ধারণা করে এলাকাবাসী।