ডাঙায় রাশিয়া, জলে চীন, আমেরিকা কই?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১:১৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮

টিবিটি আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুঁজিবাদী ও সমাজতন্ত্রী—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল বিশ্ব। এখন আর তা নেই। ভেঙে গেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। নতুন রাশিয়ায় সমষ্টির চেয়ে ব্যক্তির হম্বিতম্বি বেশি। একই অবস্থা চীনে।

সমাজতন্ত্রের অনুসারী দাবি করলেও চীনে পুঁজির দাপট চলছে ভালোই। এবার একটি ক্ষেত্রে এক মঞ্চে দুই দেশ। যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে রাশিয়া-চীন। এতে বৈশ্বিক দৃশ্যপটে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিত্যনতুন কার্যকলাপে জেরবার যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আজ হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, কাল নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন, পরশু আবার সুর নরম করছেন। ট্রাম্পের উদ্ভট কথায় ভরসা করার মতো ব্যক্তি খোদ মার্কিন মুলুকে পাওয়া দুষ্কর।

তাঁর সম্পর্কে একটি শব্দ বেশ জুতসই, ‘আনপ্রেডিক্টেবল’! বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সুযোগেই সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের রিলে রেসে এগিয়ে গেছে রাশিয়া ও চীন। এই দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক সুবিধের নয় যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ একই—প্রতিযোগিতা ও আঞ্চলিক স্বার্থ।

নিন্দুকেরা বলছেন, বিশ্ব মোড়লের মুকুট যুক্তরাষ্ট্রের হাতছাড়া হলো বলে! এত দিন মনে করা হচ্ছিল, চীন ও রাশিয়া হয়তো মুকুট অধিকারের লড়াইয়ে একে-অন্যের মুখোমুখি হবে। এই দুটি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতভিন্নতা সেই আভাস দিচ্ছিল।

কিন্তু হুট করেই দুই দেশের এক অভাবিত সিদ্ধান্তে গণেশ উল্টে গেছে। গত মঙ্গলবার রাশিয়া জানিয়েছে, এই সেপ্টেম্বরে বিশাল এক সামরিক মহড়া করবে দেশটি। আর তাতে যোগ দেবে চীন।

মস্কোর রেড স্কয়ারে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সামরিক মহড়া।
রুশ সংবাদমাধ্যম দ্য মস্কো টাইমস বলছে, গত তিন দশকের মধ্যে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া হবে এটি। নাম দেওয়া হয়েছে ভস্তক-২০১৮। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়া সর্বপ্রথম এভাবে বিশাল মহড়া করে সামরিক শক্তির বড়াই করছে।

প্রায় তিন লাখ রুশ সেনা অংশ নেবেন এতে। হবে নিত্যনতুন সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষা। আকাশে উড়বে এক হাজার রুশ সামরিক উড়োজাহাজ। থাকবে দুটো নেভাল ফ্লিটও। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে এই মহড়ায় বেইজিংয়ের অংশগ্রহণ সংখ্যাগত দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে প্রকাশ, ৩ হাজার ২০০ সেনা ও ৩০টি হেলিকপ্টার পাঠাবে চীন।

সঙ্গে থাকবে প্রায় ৯০০টি সামরিক যন্ত্রপাতি। তবে ঠিক কী ধরনের যন্ত্রপাতি, তা স্পষ্ট করেনি চীনারা। সামরিক বিষয়ে এই গোপনীয়তা অবশ্য অস্বাভাবিক কিছু নয়।

চীন-রাশিয়ার এমন যৌথ সামরিক মহড়ায় এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ন্যাটো বলছে, উরাল পার্বত্য এলাকায় অনুষ্ঠেয় এই সামরিক মহড়া সম্পর্কে ইউরোপ বা পশ্চিমা বিশ্বকে জানাতে বাধ্য নয় রাশিয়া। তবে এটি হওয়া উচিত স্বচ্ছ ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ মেনে।

ইউরোপের দেশগুলো বা কোনো নিরাপত্তা সংস্থাকে মহড়ায় আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। ন্যাটোর মুখপাত্র ডিলান হোয়াইটের মতে, এই পরিকল্পিত মহড়ার মাধ্যমে আরও আত্মবিশ্বাসীরূপে আবির্ভূত হবে মস্কো। দেশটি কেন প্রতিরক্ষা বাজেট ও সমরাস্ত্র উন্নয়নে দেদার খরচ করছে, সেটির যথোপযুক্ত প্রমাণ দেবে এই মহড়া।

আবার চীন এই মহড়ায় অংশ নেওয়ায় কপালের ভাঁজ বেড়েছে জাপানের। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মহড়া চলাকালে রাশিয়া সফর করার কথা জানিয়েছেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীন-রাশিয়ার সামরিক সম্পর্কের ওঠাপড়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চীন ও রাশিয়ার সেনাদের যৌথ মহড়ার দৃশ্য।
‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকটে আছে মস্কো। তবে রাশিয়া স্পষ্টতই জানিয়েছে, বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই এই মহড়ার আয়োজন।

যুদ্ধ সন্নিকটে ধরে নিয়েই দুই দেশ যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ কারণেই সামরিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পথে হাঁটাই রুশ সরকারের একমাত্র বিকল্প।