ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ৩ মন্ত্রীর সুর নরম

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তাঁর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, যে সাংবাদিকের মিথ্যা সংবাদ ছাপানোর উদ্দেশ্য নেই, তাদের নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। গতকাল (রোববার) নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এক কথা বলেন।

ওদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সুর নরম করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট তিন মন্ত্রী। গতকাল সম্পাদক পরিষদের সাথে আলোচনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আপত্তিকর ধারাসমূহ নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও নানা মহলের আপত্তি সত্ত্বেও গত ১৯ তারিখে জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর থেকেই আবারও সমালোচনা শুরু হয়। আইনটির আপত্তির বিভিন্ন ধারা সংশোধনের লক্ষে দুপুরে সচিবালয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট তিন মন্ত্রী- আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন সম্পাদক পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা নিয়ে আপত্তি তোলে সম্পাদক পরিষদ।

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘যে চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই বাংলাদেশের আদর্শের পরিপন্থি এটি। আমরা মনে করি এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি। আমরা মনে করি, এটি এথিকস অব জার্নালিজমেরও পরিপন্থি। আমরা আইনটাকে বাতিল করতে বলছি না। আমরা আইনটাকে সংশোধন করতে বলছি।’

আলোচনার মাধ্যমেই আইনটির আপত্তি দূর করার কথা জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘কোন কোন জায়গায় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা মনে করি, এটি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।’

সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপত্তিকর ধারাগুলো মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। যেহেতু পার্লামেন্টে আইনটি পাস হয়ে গেছে, সেহেতু ক্যাবিনেট মিটিং হবে। সেখানে এটাকে আমি উপস্থাপন করব এবং এডিটরস কাউন্সিলের যে আপত্তিগুলো, সেগুলো তুলে ধরব। মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা হওয়ার পর আমরা আবার আলোচনায় বসার জন্য সম্মত হয়েছি।’

এদিকে, সাইবার অপরাধ থেকে নিরাপদে থাকতে আজ থেকে দেশে শুরু হয়েছে ‘সাইবার সচেতনতা মাস অক্টোবর ২০১৮’।

সাইবার সচেতনতা মাস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন।

মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের প্রতিপাদ্য- ‘সাইবার সুরক্ষিত দেশ গড়ার সম্মিলিত দায়িত্ব সবার’। এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা সম্পর্কে বাংলাদেশে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে সংগঠনটি।

-পার্সটুডে।