ডিলারশীপ ব্যবসায় ব্যস্ত ইউপি সচিব, মনগড়া অফিস করায় জনদুর্ভোগ

বড়লেখার দক্ষিণভাগ (দ.) ইউনিয়ন পরিষদ

আব্দুর রব আব্দুর রব

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০ | আপডেট: ৬:২৬:অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০
ছবি: টিবিটি

বড়লেখা উপজেলার ১০ নং দক্ষিণভাগ (দ.) ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আতিকুর রহমান এ ইউনিয়নে যোগদানের পর প্রায় দেড় বছর ধরে ইচ্ছা মাফিক অফিস করছেন। চাকুরী বিধির তোয়াক্কা না করে অফিস ফাঁকি দিয়ে করছেন নামীদামী পণ্যের ডিলারশিপের ব্যবসা

ব্যবসায় ব্যস্ত থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী। করোনা সংকটেও থাকেননি কর্মস্থলে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন তার নিকট থেকে পায়নি কাঙ্খিত সহযোগিতা। ইউপি সচিবের এমন রাজকীয় অফিস স্টাইলে বিব্রত ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলার দক্ষিণভাগ (দ.) ইউনিয়ন পরিষদে সচিব পদে যোগদান করেন আতিকুর রহমান। তিনি কর্মস্থল থেকে প্রায় ২০ কি. মিটার দুরবর্তী কুলাউড়া শহরে বসবাস করেন। চাকুরী বিধি ও অফিস টাইমের তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছা মাফিক আসা-যাওয়া করেন। নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউনিয়ন অফিসে বারবার ধরনা দিয়েও তাকে না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হন ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

৩-৪ দিন ঘুরেও স্বাক্ষর নিতে ব্যর্থ হয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজে স্বাক্ষর আনতে কুলাউড়া গিয়ে সময়ব্যয়, আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখিন হন। ইউপি সচিবের নানা সেচ্ছাচারিতায় ‘বি’ গ্রেডের এ ইউনিয়নটি ইতিমধ্যে ‘সি’ গ্রেডে পতিত। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সুত্র জানায়, ইউপি সচিব আতিকুর রহমানের ছেলে আব্দুর রাকিবের নামে ‘রাকিব এন্টারপ্রাইজ’ নামে দেশের নামীদামী পণ্যের ডিলারশিপের ব্যবসা রয়েছে। রয়েছে ৬ জন সেলসম্যান।

কুলাউড়ায় বসবাস করে তিনি কুলাউড়া, বরমচাল, ভাটেরা, শমশেরনগর, জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী, বড়লেখাসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসা ও কর্মী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন। ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি কয়েক দিন পর পর কিছু সময়ের জন্য ইউপি অফিসে যান এবং ভোগ করেন সরকারী যাবতীয় সুযোগ সুবিধা।

সরেজমিনে ১, ৩ ও ৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে সচিবের রুম তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তার রুমে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা ভুক্তভোগীদের ভিড় লক্ষ করা যায়। প্রত্যয়নপত্রে সচিবের স্বাক্ষর নিতে আসা আমান উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, আজিজুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, হেলাল উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন প্রমুখ জানান, গত ২৯ মে উদ্যোক্তাকে দিয়ে নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্র লেখিয়ে সচিবের স্বাক্ষর নেয়ার জন্য কয়েকদিন ধরে ধরনা দিচ্ছেন। ৩ দিন ঘুরার পর গত ২ জুন দুপুরে তিনি একটু সময়ের জন্য অফিসে আসায় স্বাক্ষর নেয়া সম্ভব হয়।

ইউপি সচিবের মনগড়া অফিস করায় কর্মদিবসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনসাধারণ। হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা যায় ডিসেম্বর-২০১৯ মাসের ১, ২, ৩, ৪, ১৭ ও ১৮ তারিখের কলামে ইউপি সচিব আতিকুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে। অন্য তারিখের ঘরগুলোতে স্বাক্ষরও নেই, ছুটি কিংবা অন্য কোন কিছুও লিখা নেই। হাজিরা খাতার তথ্যমতে ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি অফিস করেছেন মাত্র ১দিন। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ১দিনও অফিসে যাননি। যদিও হাজিরা খাতায় বিগত তারিখের কোন কলাম শূন্য রাখার নিয়ম নেই।

এব্যাপারে ইউপি সচিব আতিকুর রহমান জানান, তিনি ২/৩ নম্বরী কোন কাজ করেন না। তাই সাংবাদিকের সাথে এসব ব্যাপারে কথা বলারও প্রয়োজন মনে করছেন না।

ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন জানান, ইউপি সচিব নিয়ম অনুযায়ী অফিস না করায় দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি ও জনসাধারণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তার (সচিব) কারণে করোনা সংকট কালীন সরকারী সহায়তার বিভিন্ন তথ্য ও তালিকা তৈরী বিলম্বিত হয়।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, অনেকেই এ ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন। তার গাফিলতির কারণে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন সহায়তার তালিকা অগ্রবর্তী করন বিলম্বিত হয়। মৌখিকভাবে তাকে অনেকবার সর্তক করেছেন।