কি কারণে ডেঙ্গু জ্বরে রক্তক্ষরণ হয়?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৬:০৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

ডেঙ্গু জ্বরে অনেক সময় রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ প্রকারের ডেঙ্গু জ্বরকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলে। এতে লালা চোখ নাক মুখ প্রস্রাব ও পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া শুরু হয়। অনেক সময় দেহের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে থাকে যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। দেখা দেয় রক্ত স্বল্পতা, হাইপোভলিউমিয়া। এ থেকে রোগী শকে চলে যায় এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ডেঙ্গু ভাইরাস চার রকমের ডেন -১ থেকে ডেন -৪। (DENV -1 to DENV -4) এর মধ্যে ডেন -২ খুবই বিপজ্জনক, ক্ষতিকর। এ ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমণে হেমোরেজিক ফিভার বেশি হয়। তাছাড়া একবার ডেঙ্গু হবার পর দ্বিতীয়বার হলে হেমোরেজিক ফিভার হবার আশংকা বেড়ে যায়।

ডেঙ্গু হেমোরেজিকে রক্তক্ষরণ হয় রক্তনালির অন্তর্গাত্রে ছোট ছোট ছিদ্র হবার কারণে। একে মাইক্রোলিকেজ বলে। সাধারণত ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর শুরুর তিন থেকে ছয় দিনের মাথায় এমনটি হয়ে থাকে। একে ক্রিটিকাল ফেইজ বলে। এ সময় রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়।

ভাইরাসের আক্রমণে রক্ত কোষগুলো থেকে বিভিন্ন রকমের ইনফ্লামেটরি মেডিয়েটর নিঃসৃত হয় এবং এই মেডিয়েটরগুলোর প্রভাবেই রক্তনালির দেয়ালে ছিদ্রের সৃষ্টি হয়।

এই ইনফ্লামেটরি মেডিয়েটর গুলোর মধ্যে অন্যতম টিউমার নেক্রোটিন ফ্যাকটর-আলফা (TNF π_1), ডেঙ্গু এন এস-১ ভাইরাল প্রোটিন (NS1) , লিপিড মেডিয়েটর প্লাটেলেট এক্টিভেটিং ফ্যাক্টর (PAF), ভাসকুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর (VEGF), এনজিওপয়েটিং, এবং রক্তকোষ প্লাটেলেট থেকে নিঃসৃত ইন্টারলিউকিন-এক বিটা (IL1-b)।

এরা সবাই রক্তনালির অন্ত্ররগাত্রে ক্ষতের সৃষ্টি করে মাইক্রোলিকেজ তৈরি করে। এই মাইক্রোলিকেজ দিয়ে রক্ত রক্তনালী থেকে বের হয়ে যায়।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার হলে রোগীর ব্লাড প্রেশার কমে যায়, দূর্বল হয়ে পড়ে। ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডেঙ্গু রোগীর দেহ থেকে মশার কামড়ে ছড়ায়। তাই রোগীকে মশামুক্ত রাখতে হয়, নিজে মশামুক্ত থাকতে হয়।

লেখক: ডা. মো. সাঈদ এনাম, সাইকিয়াট্রিস্ট

মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন।