‘ঢাকায় ডেকে এনে তামশা মঞ্চস্থ করছে ইসি’

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২১:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা বাতিলের আপিল করেন অনেকেই। অনেকে ফিরে পেলেও বাদ পড়েছেন বেশিরভাগ। আপিল করেও আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন  চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের ভাইস-চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে তামাশা করা হচ্ছে। তাদের সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত। আমারটা একেবারে রিজেক্ট করে দিয়েছে। পেন্ডিং রাখলেও তো হতো।’

তিনি বলেন, ‘আগেই ভেবেছিলাম, এখানে এসে সঠিক বিচার পাওয়া যাবে না। বাইরে থেকে লোকদের ঢাকায় ডেকে এনে তামশা মঞ্চস্থ করছে ইসি।’

মীর নাছির ছাড়াও চট্টগাম-৫ আসনে বিএনপির আরও দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারা হলেন— মীর নাছিরের ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।

বৃহস্পতিবার শুনানিতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সঙ্গে তার ছেলে হেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।

ফলে এই আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিপক্ষে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিলা ফারজানাকে নিয়েও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে ‘জঙ্গি সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ করা হয়েছে।

অবশ্য জঙ্গি সংগঠন হামজা বিগ্রেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডি থেকে সাকিলা ফারজানাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রায় সাত মাস আগে, ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়।

এরপর হাটহাজারীর আবু বকর মাদ্রাসা থেকে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জঙ্গিদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পাওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় সাকিলা ফারজানাকে।

কয়েক দফা রিমান্ড শেষে সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৬ সালের ৭ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।

সাকিলার মা ফরিদা ওয়াহিদ ওই সময় দাবি করেছিলেন, তার মেয়ে বিএনপির হয়ে অনেক মামলা লড়েছেন। এজন্য প্রতিহিংসায় তাকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে।

ব্যারিস্টার সাকিলার বাবা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এক সময় চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির এমপি ছিলেন। তিনি সংসদে হুইপের দায়িত্ব ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন।

উল্লেখ্য, যাচাই-বাছাইয়ে অবৈধ হয়ে যাওয়া মনোনয়নধারীরা গত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩টি আপিল করেন। সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য শুনানি করছে নির্বাচন কমিশন।

শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), অন্য চার কমিশনার, ইসি সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত আছেন।

Add Image