ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতদের অবাঞ্চিত ঘোষণা

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মেহেদি মুঈন, ঢাবি সংবাদদাতা: বুধবার বেলা ১২টার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অপারাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তিকৃত ও তাদের সহযোগীদের আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপাচার্য বরাবর স্মরকলিপি প্রদান করে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর,ডাকসুর সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন,কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান, ফারুক,বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ডাকসুর পরাজিত স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী অর্নি সেমন্তি সহ বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।।

ভিপি নুরু বলেন, গত বছরে ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে যখন বিভিন্ন প্রত্র প্রত্রিকায় লেখা লেখি হচ্ছিলো তখন আইন বিভাগের একজন ছাত্র আখতার হোসেন প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম অনশন করেছিলো। প্রশাসন প্রথম দায়সারা বক্তব্য দিয়েছিলো যে প্রশ্ন ফাঁস হয়নি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে পড়ে পুনরায় ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা নিয়েছিলো। ছাত্রদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে সেটা যেখানেই হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশকে স্বাধীন করেছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছে। ২০১৩-১৪ সেশন থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে আসলেও প্রশাসন সবসময় দায়সারা বক্তব্য দিয়েছে। আজ সাংবাদিকরা প্রশ্নফাঁসকারীদের খুঁজে বের করে। প্রয়োজন কোন আইন মানে না। অতি দ্রত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে হবে। যারা বের হয়ে গেছেন তাদের সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জালিয়াতের নামসহ বের করতে হবে।

আখতার হোসেন বলেন, ২০১৮ সালে একজন আখতার অনশন করেছিলো কিন্তু আজ শত শত আখতার একত্রিত হয়েছে। তাদের দাবি একটিই যারা ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তাদের বহিষ্কার করতে হবে। প্রশ্নের ব্যাপারে প্রশাসনকে সচেতন হওয়ার জন্য আমরা আহ্বান করে ছিলাম। যারা জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়েছে এই জালিয়াতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার রাখে না। তাদের আজ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হলো। আপনারা তাদের কে চিহ্নত করে তাদের কে হল থেকে আপনারা বের করে দিন।

কোটা সংস্কার নেতা ফারুক বলেন,যারা ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তারা আজ আমাদের সামনে ফাফঁর নিয়ে চলে। যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তাদের শুধু বহিষ্কার করলেই চলবে না যারা তাদের সাথে জড়িত তাদের ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাশেদ বলেন,যারা ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন।আমরা রাজনৈতিক সংগঠনকে বলতে চাই তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন।স্মারকলিপিতে তারা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিসমূহ হচ্ছে-ভর্তি জালিয়াতকৃত সকল শিক্ষার্থীদের আজীবন বহিষ্কার করা।প্রশ্ন জালিয়াত ও এর সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। প্রশ্নপর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা।ভবিষ্যতে যাতে জালিয়ত চক্র সক্রিয় হতে না পারে তার শতভাগ নিশ্য়তা দেওয়া।