ঢাবিতে বিশ্ব হিজাব দিবস পালিত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৪৮:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

১লা ফেব্রুয়ারি, ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে বা বিশ্ব হিজাব দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এবার বিশ্ব হিজাব দিবস পালিত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথমবারের মত বিশ্ব হিজাব দিবস পালন করা হয়েছে।

‘হিজাব ইজ মাই ফ্রিডম’, ‘হিজাব ইজ মাই প্রটেকশন’ ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’ ‘হিজাব ইজ মাই কভার’ শ্লোগানে রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে বিশ্ব হিজাব দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শ্রেণীকক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদ, ড. শামসুল আলম, ড. মাসুদ আলম, শেখ ইউসুফ সহ প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে হিজাবের গুরুত্ব, তাৎপর্য, সৌন্দর্য্য সংবলিত দেয়ালিকাও প্রদর্শন করা হয় এবং হিজাব সম্পর্কে হিজাব ব্যবহারকারীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

ঢাবিতে হিজাব দিবসে অংশ নেয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়া হুসাইন হিজাব দিবস সম্পর্কে বলেন, “আমাদের হিজাব ডে পালন করার উদ্দেশ্য হল মানুষের মাঝে এই মেসেজটা দেয়া যে পোশাকের স্বাধীনতা সকলের প্রাপ্য অধিকার।বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের তথা বিশেষ করে মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে যেভাবে হেনস্তা বা হেয় করা হয় আমরা তার প্রতিবাদ জানাই। আর ধর্মীয় অনুভূতির ফলে কেউ যদি হিজাব পরিধান করে সেক্ষেত্রে তার পোশাকের স্বাধীনতা খর্ব করার অধিকার মানে তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। সুতরাং অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী হিজাবের স্বাধীনতা কামনা করেই ঢাবিতে আমরা হিজাব ডে পালন করেছি”

৪র্থ বর্ষের ছাত্রী মুনিরা রহমান তাসফি বলেন, সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি কদর্য দিক। প্রগতিশীলতার নামে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণে নারীদের প্রতি হিংস্রতা বাড়ছে। পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পাশাপাশি নারীরা যদি শালীন পোশাক বা হিজাব ব্যবহার করে তাহলে এ ধরণের ঘটনাগুলো অনেক কমে যাবে।

বিভাগের শিক্ষার্থী বুশরা জান্নাত বলেন, ফ্রিডম অব চয়েস সবার আছে কিন্তু এদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন আমরা শুনি হিজাব পড়ার কারণে মেয়েদের ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে তখন নারী স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এর বিরুদ্ধে বার্তা দিতে আগামীতে আরও বড় পরিসরে হিজাব দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

Add Image

হিজাব নারী স্বাধীনতায় কোন বাধা সৃষ্টি করে কিনা , জানতে চাইলে শিক্ষার্থী জিন্নাতুন নুর মিতু বলেন, আমরা পারিবারিক বা সামাজিক কোন চাপে হিজাব পড়ি না, বরং বিশ্বব্যাপী নারীর হিজাব পড়ার অধিকার এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, হিজাব পড়ার কারণে তাদের কোন কাজ করতে সমস্যা হয় না। অন্যদের মত সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ সব কাজে অংশগ্রহণ করছেন তারা।

ইসলামিক স্টাডিজ ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার সোমা ও জান্নাতুল ফেরদৌস স্বর্ণার সাথে কথা বলে জানা যায় হিজাব পড়ে তারা নিয়মিত সাইকেলিং করেন। এক্ষেত্রে তাদের কোন ধরণের সমস্যা হয় না। এছাড়া সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে হিজাব পড়া মেয়েদের নিয়মিত জগিং করতেও দেখা যায়। একসময় নারীদের অবরোধ করে রাখা এবং পর্দাপ্রথার মধ্যে রাখার বিরুদ্ধে এদেশে লড়াই হয়েছে, নারী আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু এখন একুশ শতকে এসে হিজাব পড়াকে নিজেদের অধিকার মনে করছেন নারীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ পালন করা শুরু হয়। সেই থেকে হাজারো মুসলিম, অমুসলিম নারী হিজাব পরে দিবসটি পালন করেন।

‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ উদযাপনের চিন্তাটা প্রথমে আসে নিউইয়র্কের বাসিন্দা নাজমা খান নামে এক নারীর মনে। নাজমা খানের জন্ম বাংলাদেশে হলেও তিনি ১১ বছর বয়স থেকে নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।

ফেইসবুক, টূইটারের মতো সামাজিক সোশ্যাল নেটোয়ার্কের মাধমেই এ দিবসটির চেতনা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স, জার্মানির মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও বিশ্ব হিজাব দিবস ১৪০টি দেশে পালিত হয়েছে।