ঢাবিতে বৈধ সিট প্রদানসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন

মেহেদি মুইন মেহেদি মুইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: 8:24 PM, October 17, 2019 | আপডেট: 8:24:PM, October 17, 2019
ছবি: টিবিটি

ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে বৈধভাবে সিটপ্রদান, গেস্টরুম নামক টর্চার সেল বন্ধ করাসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আবার দুপুরে ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আবাসিক হলগুলোতে বৈধভাবে সিটপ্রদানসহ ছয় দফা নিয়ে “বৈধ সিট আমার অধিকার ” মঞ্চ থেকে এই মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন তারা। এসময় সাধারন শিক্ষার্থীদের বৈধ সিটের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা প্রদান করেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৈধ সিটের নিশ্চয়তা প্রদানসহ তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে আরো রয়েছে গেস্টরুম নামক টর্চারসেল সম্প‚র্ণ বন্ধ করতে হবে, হলে অবস্হানরত অবৈধ এবং অছাত্রদের হল ত্যাগে বাধ্য করতে হবে, পলিটিক্যাল গণরুম সম্প‚র্ণ বাতিল করতে হবে, সিট বরাদ্দে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবেনা, পলিটিক্যাল রুমের নামে রুম দখল চলবেনা।

আরবি বিভাগের ৩য় বর্ষেও শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান সাজিদ বলেন ” এখানে ঢাবিতে কেউ কারো দাসত্ব করতে ভর্তি হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতি নয়, সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বষের্র শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবরার হত্যাকান্ড বুয়েটের কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি পুরো বাংলাদেশের নির্যাতনের বহিঃপ্রকাশ। আবরার হত্যা হাফিজ, আবু বক্কর হত্যারই প্রতিফলন। প্রোগ্রামে জনবল পাবে না বলেই ছাত্রলীগ গেস্টরুম, গণরুম বন্ধ করতে চায় না।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ইশরাতুল জাহান নিশি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি স্বাধীনচেতা মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠতে। কিন্তু সেই পরিবাশ পাচ্ছি কই? আমরা আমাদেও অধিকার পাচ্ছি না। ভয়ে কথা বলতে পারিনা। ব্যক্তিস্বাধীনতায় কেন বাধাগ্রস্থ হব? বুয়েটে যদি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে পারে তাহলে আমরা কেন আমাদের অধিকার বৈধ সিট পাব না।’

ইংরেজি বিভাগের প্রথম শিক্ষার্থী শাহজাহান তানিম বছরের শুরুতে তার হলে থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ নাকি শেখাবে আমাদের ম্যানার? যারা হত্যা আর খুনের রাজনীতি করে বেড়ায়, যারা গুলি করে মনুষ মারে, যারা রড দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মারে, যারা হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তারা শেখাবে ম্যানার? তারা ম্যানারের নাম করে যা শেখাবে তা হচ্ছে কিভাবে মানুষ মারতে হয়, কিভাবে হত্যা করতে হয়। এসময় তিনি আবাসিক হলগুলোতে বৈধ সিট নিশ্চিতের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার আহবান জানান।