ঢাবি ক্যাম্পাসে পুলিশের গাড়ি, এটা কী ক্যান্টনমেন্ট? প্রশ্ন নুরের

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ৯:১২:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

এরপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশের গাড়ি দেখলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

সোমবার (১ মার্চ) বিকাল সোয়া চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রাজু ভাস্কর্যের সামনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, লেখক মুশতাক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাস থেকে আটককৃত ছাত্রদের মুক্তি ও ক্যাম্পাসে পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ নির্দেশ দেন।

নুর বলেন, পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করে দেওয়া হয়েছে। আপনারা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা কর্মচারী, আপনারা কেন আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করছেন। আমি এডিসি হারুনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। তিনি ছাত্রলীগের গুণ্ডা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, এখানে পুলিশের গাড়ি রয়েছে। আমি আমার ছাত্র ভাইদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, পরবর্তীতে এখানে পুলিশের গাড়ি দেখলে আগুন ধরিয়ে দেবেন। হুকুমের আসামি আমি হবো। পুলিশ কেন এখানে থাকবে? এটা কী ক্যান্টনমেন্ট? অন্যায় যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, প্রতিরোধ তখন কর্তব্য।

সাবেক এই ভিপি বলেন, বর্তমানে আমরা যে পরিস্থিতিতে আছি লড়াইয়ের বিকল্প নেই। বাঁচতে হলে লড়াই সংগ্রাম করে বাঁচতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হবে না। কারণ এরা সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে ফেলছে, মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। কাজেই লড়াইয়ের মাধ্যমে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। যার শুরুটা হবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের মাধ্যমে।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহবায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ধরে আটক থাকা অবস্থায় একজন লেখককে কারাগার মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। এটা বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের জন্য লজ্জার। এই সরকার আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়। অনতিবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে এবং লেখক মুশতাক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁনের সভাপতিত্বে ও ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, মাহফুজুর রহমান, তারেক রহমান, ঢাবি শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ আহসান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন।

সমাবেশ শেষে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন তারা।