ঢামেকে রিপোর্ট আগে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৯:২৬:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯
ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রিপোর্ট আগে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢামেকের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার প্যাথলজি বিভাগে এ সংঘর্ষ হয়। থেমে থেমে চলা সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢামেক জরুরি বিভাগে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

প্যাথলজি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিক্যালে চতুর্থ শ্রেণি ও টেকনোলজিস্টরা একদিকে অন্যদিকে হাসপাতালের নার্সরা। এই দুই গ্রুপ এসে প্যাথলজি বিভাগে হাতাহাতি ও মারামারি করেছে।

এতে প্যাথলজিতে থাকা সাধারণ রোগী রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে এসে এই দুই গ্রুপের মারামারির মধ্যে পড়েন। এতে তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। তারা ছোটাছুটি করতে থাকে।

ঢামেক জরুরি বিভাগে ডিউটিরত ব্রাদার মো. রাসেল জানান, ‘দুপুর সাড়ে ১২টায় আমার এক আত্মীয়ের রক্তের রিপোর্ট আনতে আমি প্যাথলজি বিভাগে যাই। নিয়ম অনুযায়ী আমি সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

অনেকক্ষণ লাইনে থাকার পরও রিপোর্ট না পেয়ে আমি রিপোর্ট প্রদানকারী কর্মকর্তার কাছে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাই। ঐ কর্মকর্তা আমাকে জানান, আপনি ব্রাদার হলেই আপনার রিপোর্ট তাড়াতাড়ি দিতে হবে? এমন কোনো কথা আছে? তার এই কথার আমি প্রতিবাদ করি। আমি তার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা তো চাইনি?’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এর পরপরই তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে রিপোর্ট প্রদানকারী ঐ ব্যক্তি ব্রাদার রাসেলের কলার ধরে মারধর করে। রাসেলের সঙ্গে থাকা আরো তিন জন এর প্রতিবাদ করলে প্যাথলজিতে থাকা অপর স্টাফরা মিলে তিন জনকেই মারধর করে বলে অভিযোগ করেন রাসেল।

এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি হ্যান্ড মাইকে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটা হাসপাতাল। মানুষ চিকিত্সার জন্য আসে, আপনারা সবাই শান্ত হোন। কি হয়েছে? আমরা ব্যাপারটা দেখছি।

এদিকে ‘প্যাথলজি বিভাগে তিন জন নার্সকে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে’—এমন খবর হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে অন্য নার্সরা মিছিল করে প্যাথলজি বিভাগে যান। সে সময় প্যাথলজি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়।

প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বরত রুবেল নামের এক কর্মচারী জানান, যারা তিন-চার বছর আগে নিয়োগ পেয়েছেন, নতুন নার্স। তাদের আদব-কায়দা বলতে কিছুই নেই। তারা কয়েকজন প্যাথলজিতে এসেই মাস্তানি শুরু করে। বলে, আমাদের রিপোর্ট দেন, রিপোর্ট কই।

এখনো আমাদের রিপোর্ট পাচ্ছি না। আমরা হাসপাতালে নার্স, এই বলে হইচই করতে থাকে। এ হইচইয়ের একপর্যায়ে আমাদের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আজিজ বেরিয়ে এলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়।

এ ব্যাপারে ডা. আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি, একপর্যায়ে তারা আমার ওপর হামলা করে।’