তাবলিগ জামাতের দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারের ৫ নির্দেশনা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

বিশ্বব্যাপী দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত সংগঠন তাবলিগ জামাতের অনুসারিদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। বাংলাদেশ ও ভারতের দেওবন্দসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমদের সঙ্গে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের আমির হজরত মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। যা বাংলাদেশের তাবলিগের সাথীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫টি নির্দেশনা প্রদান করে এক পরিপত্র জারি করে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, তাবলিগ জামাতের চলমান দ্বন্দ্ব ও সংকট নিরসন করে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক অপপ্রচার বন্ধ করে একে অপরের প্রতি সহনশীল মনোভাব পোষণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

দ্বন্দ্ব ও সংকট নিরসনে সরকারের ৫ নির্দেশনা
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দেলোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এ পরিপত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং দাওয়াত ও তাবলিগের কাজকে সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে দেয়া নির্দেশনা হুবহু তুলে ধরা হলো-

১. নির্দেশাবলী
ক) বর্তমানে তবলিগে বিদ্যমান দুটি পক্ষ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা পরামর্শক্রমে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমা ময়দানসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা মারকাজে সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে/তারিখে তাঁদের কার্যক্রম (সাপ্তাহিক বানি ও রাত্রি যাপন, পরামর্শ ও তালীম, মাসিক জোড় ইত্যাদি) পরিচালনা করবে।
তবে কোন পক্ষ চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পরামর্শক্রমে মারকাজ ব্যতিত অন্য কোন মসজিদে/জায়গাতেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

খ) তাবলিগের আদর্শ ও চিরাচরিত রীতিনীতি অনুযায়ী কোন পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে কোনরূপ লিখিত বা মৌখিক অপপ্রচার চালাবেনা।

গ) দেশের সকল মসজিদে পূর্বের ন্যায় শান্তিপূর্ণভাবে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে যে কোন মসজিদে উভয় পক্ষের জামাতই যেতে পারবে। এতে কোন পক্ষই কাউকে বাধা দিবেনা।

তবে একই সময়ে দুই পক্ষের দেশী ও বিদেশী জামাত একই মসজিদে অবস্থান করা যুক্তিসংগত হবেনা। এক্ষেত্রে যে পক্ষের জামাত আগে আসবে সেই পক্ষের জামাত অবস্থান করবে। অন্য পক্ষের জামাত পার্শ্ববর্তী অন্য কোন সুবিধাজনক মসজিদে চলে যাবে।

ঘ) উভয় পক্ষ তাঁদের ইজতেমা/জোড়ে তাবলিগের দেশী-বিদেশী মুরুব্বিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। এতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কার্যক্রমে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন।

ঙ) কোন এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

২. উপরে বর্ণিত নির্দেশনাসমূহ সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

৩. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখের ০৪.০০.০০০০.৫১২.১৬.০২০.১৮-৩৬৬ নম্বর পত্রমূলে এই পরিপত্র জারি করা হলো।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ পরিপত্রের শুরুতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, তাবলিগ জামাত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। “সমগ্র বিশ্বে তাবলিগের কার্যক্রম একটি আরাজনৈতিক, অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত। মুসলিম জণসাধারণ তাদের আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের দাওয়াতে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন।’

‘এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি অন্যতম অগ্রসরমান দেশ বিধায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম জামাত ‘বিশ্ব ইজতেমা’ প্রতি বছর গাজীপুর জেলার টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে’ বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের কাজ আগের মতো শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হোক এটাই শান্তিকামী জনতার দাবি।