তারেকের ফাঁসি চাইলেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪৭:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮
ফাইল ছবি

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানে ফাঁসির দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমি একজন গ্রেনেড হামলার ভিকটিম। আমার শরীরে এখনো ৪০টি স্প্লিন্টার আছে। শত শত স্প্লিন্টার নিয়েও অনেকে বেঁচে আছে। দীর্ঘ এক বছর বাসা থেকে কলমা পড়ে বের হতাম যে আজকে মনে হয় ফিরবো না। কারণ গ্রেনেড হামলার পর সে রকমই মানসিক অবস্থা ছিল। আমি একজন এই গ্রেনেড হামলার ভিকটিম হিসেবে তারেক জিয়াসহ যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি। যেহেতু খালেদা জিয়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেহেতু তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। তাই আমি তাকেও শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী, এতবড় একটি গ্রেনেড হামলা হলো আর সেটা তিনি জানতেন না? সেদিন যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলো তাদের কাউকে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। গ্রেনেড হামলার বিচার এবং শাস্তির আওতায় খালেদা জিয়াকে অবশ্যই আনা উচিত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেনেড হামলা পরিচালিত হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যে কয়জন সরকারি কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে তারা কিভাবে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিভাবে তারেক রহমান গ্রেনেডগুলো সরবরাহ করেছিল। এই গ্রেনেড সরকার ছাড়া অন্য কারও কাছে থাকার কথা না। কারণ এগুলো আর্জেস গ্রেনেড, এগুলো যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। এগুলো সেনাবাহিনী ব্যবহার করে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের মাথায় গণ্ডগোল রয়েছে দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন তারেক রহমান নাকি সরকারের প্রতিহিংসার শিকার। এজন্যই নাকি তাকে গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আবার গতকাল তিনি অভিযোগ করেছেন তাদের সমাবেশ বাধাগ্রস্থ করার জন্য নাকি ঠাকুরগাঁও সদর থানার ৮ নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে ও গ্রেফতার করা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় মির্জা ফখরুল সাহেবের মাথায় গণ্ডগোল দেখা দিয়েছে।

আয়োজক সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহম্মদ আবু কাউসার, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিন্নাত আলী জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।