তাহলে দেশটা চালাবে কে: ডা. জাফরুল্লাহ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৪:৪৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর কোন অন্যায় করলে তার বিচার করার আহবান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘তাই বলে হয়রানি করা যাবে না। তাকে ঘর থেকে বের হতে দেবেন না, এটা হয় না।’

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করে হয়রানি এবং নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ভিপি নুর, সে যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিচার হবে। তাই বলে হয়রানি করা যাবে না। তাকে বের হতে দেবেন না, এটা হয় না। জনগণকে বের হতে দিচ্ছেন না, সেজন্য দেশে নৈরাজ্য চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি কোথায় নেই? শিক্ষা বিভাগের ডিজিও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, একটা ড্রাইভারও অভিযুক্ত। শিক্ষিত মানুষ, উপাচার্য, ওনার চাকরি হলো রংপুরে- থাকেন ঢাকায়। এটা কি দুর্নীতি না? কেন তাদেরকে ঢাকায় থাকতে হবে? এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে সামনে দুর্দিন আসছে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার কিসের ভয়? ঘরের মধ্যে বন্দী থাইকেন না। খালেদা জিয়া অন্যায় করেছে, টাকার হিসাব দেয়নি, তাকে জেলে দিয়েছেন ঠিক আছে। উনি এক জেলে আছেন, আপনি আরেক জেলে আছেন। তাহলে দেশটা চালাবে কে? আমাদের রাস্তায় নেমে উন্মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে হবে। না পারলে মস্তিষ্ক কাজ করবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা এনেছি কারও গোলামি করার জন্য না। এটা বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন। তিনি ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বলেছিলেন, ভারতের সৈন্য হটাও। কিন্তু ভারতীয় সৈন্যের পোশাক পরা লোক নেই, সাদা কাপড়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের মৃত্যু, রাজনীতিবিদদের মৃত্যু আমাদের চিন্তা চেতনার মৃত্যু ঘটাচ্ছে।’

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা নুরের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিন, হয়রানি বন্ধ করেন। যে হয়রানি আমার ওপরও বিদ্যমান। এখনও আমার মামলা চলছে, আমি মাছ চুরি করেছি! কায়টা মাছ খেতে পারি আমি? সুতরাং প্রধানমন্ত্রী এগুলো বন্ধ করুন। বন্ধ না করলে তা হবে দেশের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এ আইন হচ্ছে বিনা বিচারে শাস্তি প্রদানের শামিল। রাজনীতিবিদদের সহনশীল হতে হবে। ক্রিটিসিজম সহ্য না করতে পারলে রাজনীতিবিদ হওয়া যাবে না।’