‘তীব্র বাতাসে’ বাংলাদেশের দিকে নিম্নচাপ, অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০ | আপডেট: ৬:১০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদী বন্দরের মধ্যে কিছু এলাকায় ২ এবং কিছু এলাকায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী,ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতি বেগ একটানা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল। এ কারণে দেশের চার সমুদ্র বন্দর- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে গভীর সাগরে বিচরণ করতে না করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নদী বন্দরগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়- ঢাকা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ককক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব দিকে থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া দেশের অন্য এলাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব দিকে থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতায় বলা হয়, নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী,ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী অর্থাৎ ৪০ থেকে ৮৮ মিলিমিটার থেকে অতি ভারী অর্থাৎ ৮৯ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি বৃষ্টি হতে পারে।

নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এই নিম্নচাপ কি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন আবহাওয়াবিদ জানান, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নিম্নচাপ ঘনীভূত হলে ঘূর্ণিঝড় হয়। কিন্তু এই নিম্নচাপ যেহেতু আগে থেকেই বৃষ্টি ঝরাচ্ছে সেহেতু এর শক্তি কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড় নাও হতে পারে। তবে যদি এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে তাহলে আগামীকাল সকাল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তখন এর নাম হবে ‘গতি’। তবে এখনই আমরা ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলতে চাইছি না। তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে। এখনও নিম্নচাপটি বেশ দূরেই আছে।