তুরস্কে তিন মেয়রকে বরখাস্ত, কী বলছে এরদোগানের দল?

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

সন্ত্রাসী সংগঠন পিকেকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তুরস্কের তিন মেয়রকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলুর খবরে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিয়ারাবকির, মার্ডিন এবং পূর্ব ভ্যান প্রদেশের মেয়র আদনান সেলকুক মির্জাকলি, আহমেট তুর্ক এবং বেদিয়া ওজগোকেস এরতানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত এই তিন মেয়র তুরস্কের বিরোধী দল পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এইচডিপি) সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন পিকেকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গুজব ছড়ানোর কারণে ওই মেয়রদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।

বরখাস্তকৃত মেয়রদের শূন্যপদে সাময়িকভাবে নতুন মেয়র নিয়োগ দেয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কী বলছে এরদোগানের দল

পিকেকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে সরকারি দল একে পার্টি। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের নেতৃত্বাধীন দলটির অভিযোগ, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিরোধী দলগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তুরস্কের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফুয়াত উকতাই বলেছেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম এগিয়ে নিতে তুরস্ক সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী মেয়রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য ছিল।

তিনি বলেন, বিচারিক ও প্রশাসনিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই তিনটি শহরের প্রাশসনিক কার্যক্রম একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সিরিয়ার মানবিজ ও উত্তর ইরাকের সীমান্তজুড়ে তুরস্কের সঙ্গে কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টির (পিকেকে) বিরোধ চলছে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পিকেকে তুরস্কের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে রক্তাক্ত অভিযান চালিয়েছে আসছে। পিকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

পিকেকে জুলাই ২০১৩ সালে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে। সেই সময় থেকে পিকেকের আক্রমণে নারী ও শিশু সহ প্রায় ১,২০০ নিরাপত্তা কর্মী ও বেসামরিক লোকের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়। প্রায় ৪ হাজারের অধিক নিরাপত্তা কর্মী এবং ২ হাজার জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।