থানার মধ্যে ধর্ষণ, অভিযুক্ত এসআই এখনো তদন্ত কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৯ | আপডেট: ১১:০০:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৯

খুলনা জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় গণধর্ষণের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গণি পাঠান ও উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হককে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। এখনো অভিযোগকারী সেই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার খুলনা জেলগেটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলিফ রহমানের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া বিকালে ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন রেলওয়ে পুলিশের তদন্ত কমিটির সদস্য।

এদিকে অভিযুক্ত এসআই গৌতম এখনো তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে বহাল থাকায় গণধর্ষণের মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এ ছাড়া গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে নারী নির্যাতন আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা। গৌতমসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জিআরপি থানায় গিয়ে সাংবাদিকরা দেখতে পান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটির প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন ওসির কক্ষে বসে থানার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। এ সময় সেখানে তদন্ত কমিটির অপর তিন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

পাশের কক্ষে (ডিউটি অফিসারের কক্ষ), পাকশী রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রধান এএসপি ফিরোজ আহমেদও থানার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। ওই কক্ষে তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্যও ছিলেন।

এসপি সেহেলা পারভীন জানান, একজন নারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সকাল ১০টার দিকে খুলনা জেলা কারাগারের গেটে অভিযোগকারী নারীকে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার কাছে তাকে কোথা থেকে কীভাবে আটক করা হয়, থানায় কী ঘটেছিল, সে বিষয়সহ আরও বেশ কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়। তবে ওই নারী কী বলেছেন তা তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এসপি সেহেলা পারভীন বলেন, ওই দিন রাতে থানায় যাদের ডিউটি ছিল, তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে ব্রিফিং করা হবে।

রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর বড়বোন হোসনে আরা বেগম বলেন, থানা হেফাজতে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্ত কমিটির কাছে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই গৌতম এখনো সাজানো ফেনসিডিল মামলার আইও হিসেবে বহাল থাকায় সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে। এমনকি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সংস্থার পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে তিন সন্তানের জননী গৃহবধূকে (৩০) আটক করে খুলনা জিআরপি থানাপুলিশ। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অভিযোগ দিয়ে ওই নারীকে আটক করা হয়। তার পর রাতে থানাহাজতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করেন। পর দিন তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।