থাপ্পড় খেয়ে যা বললেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১ | আপডেট: ৬:৫৩:অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

জনসম্মুখে চড় খাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তিনি নিজের সুরক্ষা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না। আঘাতের পরেও জনসাধারণের সাথে হাত মেলানো অব্যাহত রেখেছিলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি এগিয়ে যাবেনই এবং কিছু তাকে থামাতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেছেন ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট। বুধবার (৯ জুন) এসব জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুন) এক ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভ্যালেন্স শহরের বাইরের টেইন-ই হারমিটেট এলাকায় সরকারি সফরের সময় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে হাত মেলাতে যান ম্যাক্রোঁ। এসময় ব্যারিকেডের অপরপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই যুবক ম্যাক্রোঁর গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন। তারপর নিরাপত্তা বাহিনী ম্যাক্রোঁকে দ্রুত সরিয়ে নেন। পরে আবার জনগণের সাথে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।  পুলিশ ওই নাগরিকসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

থাপ্পড় খেয়ে খুবই ক্ষুব্ধ ম্যাক্রোঁ। অনেকটা এভাবেই বলেছেন, ক্ষোভ প্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে। কিন্তু বোকার মতো গায়ে হাত তুলবে কেন? আমি সাধারণ নাগরিকদের কাছে যাই। অনেক সময়ই তারা ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ করে থাকেন।

মঙ্গলবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতেও সব দলের আইনপ্রণেতারা ওই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসেক্স বলেন, দেশের প্রধানের ওপর হামলার অর্থ হল গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। গণতন্ত্রের অর্থ হল বিক্ষোভ, বিতর্ক, আর আলোচনার মাধ্যমে মতামত আদান-প্রদান। মতভেদ থাকতে পারে। সেটা জানানোর বৈধ উপায়ও আছে। কোনোভাবেই মৌখিকভাবে হেনস্তা বা শারীরিক আঘাত গ্রহণযোগ্য নয়।

দেশটির একটি বামপন্থী দলের আইনপ্রণেতা আদ্রিয়েন কোয়াটেনেন্স মনে করেন, যে হামলার শিকার হয়েছেন ম্যাকরন তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে যে কোনো সমস্যা আলোচনা আর ব্যালটের মাধ্যমে সমাধান করতে হয়। সহিংসতার মাধ্যমে নয়।

উল্লেখ্য, ড্রোম প্রদেশের ছোট শহরটির রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও স্কুল পরিদর্শনের পর অপেক্ষমান সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময়ে এগিয়ে যান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। হঠাৎ ঘটে যায় অপ্রীতিকর ওই ঘটনা। দেহরক্ষীরা দ্রুত সামলে নিলেও এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে অনলাইনে।

ঘটনার পর থেকে এখনও আটককৃত হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেনি ফরাসি পুলিশ। এমনকি জানা যায়নি প্রেসিডেন্টকে চড় মারার কারণও।