দশ মন্ত্রীর পদত্যাগে টালমাটাল টার্নবুল

প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮

ক্ষমতাসীন কোয়ালিশনের প্রধান দল লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব সংকটে টালমাটাল হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি। সংসদীয় দলের নেতৃত্ব প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল নাজুক অবস্থায় পড়েন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে কোনভাবে পার পেলেও, এক সাথে দশ মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেয়ায় নতুন করে সংকটে পড়েছেন তিনি। তবে, তার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করা পিটার ডুটনসহ দুই মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও বাকিদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী।

কুইন্সল্যান্ডের নির্বাচনে হার এবং জ্বালানি নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সম্প্রতি নিজ দল লিবারেল পার্টির সদস্যদের ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখী হন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। এক পর্যায়ে তার মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটোন প্রধানমন্ত্রীর দলীয় নেতৃত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে মঙ্গলবার ক্যানবেরায় লিবারেল পার্টির সংসদীয় সদস্যদের অংশগ্রহণে ভোটাভুটি হয়। ভোট দেন প্রতিনিধি পরিষদ, প্রাদেশিক পরিষদ এবং আঞ্চলিক সরকারের প্রতিনিধিরা। এতে ৪৮-৩৫ ভোটে কোন রকমে উৎরে যান টার্নবুল।

ভোটে জয়লাভ করার পর দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান টার্নবুল।

ম্যালকম টার্নবুল, প্রধানমন্ত্রী, অস্ট্রেলিয়া বলেন, আমরা একতাবদ্ধ না থাকলে সরকারের যে দায় দায়িত্ব রয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয়। আমরা এখন ঐক্যের সংকটে রয়েছি। তাই দল এবং দেশের স্বার্থে আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

চ্যালেঞ্জে হারার পরপরই পদত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটন। এর পরপরই নতুন করে সংকটে পড়েন টার্নবুল। ডুটনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন মন্ত্রিসভার আরো নয় সদস্য। তবে ডুটনসহ দুই মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও বাকীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। এ-অবস্থায় অনেকের আশঙ্কা আবারও তার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে পারে।

জুলি বিশপ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অস্ট্রেলিয়া বলেন, যারা ম্যালকমকে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল তাদের পক্ষ থেকেই বেশিরভাগ পদত্যাগের আবেদন এসেছে। ম্যালকম টার্নবুলের নেতৃত্ব নিয়ে দলে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার মানুষের স্বার্থে টার্নবুল সংকটের সমাধান চান। মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও তাকে সহযোগিতা করার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।

এ অবস্থায় এটিকে বিশৃঙ্খল উল্লেখ করে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবের চেষ্টা করে বিরোধী লেবার পার্টি। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থন না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানায় দলের প্রতিনিধি তানিয়া প্লিবারসেক।

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে গত এক দশকে ম্যালকম টার্নবুলসহ তিনজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার প্রথম মেয়াদেই নিজ দলের সদস্যদের বিরোধিতার মুখোমুখী হয়েছেন।