দাফনের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৪৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮

যশোর সিটি কলেজের ডোবায় এক নারীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে যশোর আঞ্জুমানে মফিদুল অজ্ঞাত লাশ হিসাবে দাফন করে। পরবর্তীতে ছবি দেখে অনুমান নির্ভরভাবে এক বাবা দাবি করে দাফনকৃত লাশটি তার মেয়ে সাথী খাতুনের (২৫)। শনিবার দিনগত রাতে যশোরের থানা পুলিশ দাফনের ১১ দিন পর তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে। রবিবার সদর থানার পুলিশ আদালতে হাজির করলে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাথীকে পরিবারের জিম্মায় দেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ডোবায় পাওয়া ওই লাশ কোন নারীর।

যশোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসান জানান, আঞ্জুমানে দাফন করা লাশ শনাক্তকারী সাথী খাতুনকে পুলিশ শহরের ইছালী ইউনিয়নের জলকার গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডোবা থেকে আমরা যখন লাশ পাই তখন তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। ফলে আঞ্জুমানে মফিদুল অজ্ঞাত লাশটি দাফন করে। পরবর্তীতে ছবি ও পরিধেয় জিনিস দেখে চৌগাছার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন দাবি করেন লাশটি তার মেয়ে সাথীর। সাথীকে উদ্ধার করে আমরা আদালতে প্রেরণ করেছি।

এদিকে সূত্র জানায়, ২৯ আগস্ট দিবাগত রাত ২টায় যশোর সরকারি সিটি কলেজ মসজিদের পাশের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে যশোর পুলিশ। দু’দিনেও পচা গলা ওই লাশের পরিচয় না মেলায় ৩০ আগস্ট আজুমানে মফিদুল দাফন সম্পন্ন করে। আর দাফনের পর ছবি ও পরিধেয় কাপড় দেখে ওইদিন রাতে চৌগাছার নাইড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন দাবি করেন লাশটি মেয়ে সাথীর। এ ছাড়া চাঁদপাড়ার মোস্তফা সরদারও সনাক্ত করেন লাশটি তার স্ত্রী সাথীর। শ্বশুর জামাইয়ের শনাক্ত মিলে যাওয়ায় ওই রাতেই পুলিশ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ গুমের মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্তও শুরু করে। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা সেকেন্ড অফিসার আমিরুজ্জামান জানান, সাথী খুব ধূর্ত। দরিদ্র পিতার মেয়ে এবং স্বামীও দরিদ্র। এনজিওতে আসা যাওয়া করার এক পর্যায়ে সে রঙিন স্বপ্ন দেখতে থাকে। প্রেমিক পাল্টিয়েও চলছিল সে। একটি পাসপোর্টের সূত্র ধরে তিনি জীবিত সাথী পর্যন্ত পৌঁছেছেন।

তিনি জানান, সাথী হত্যাকাণ্ড তদন্ত করতে গিয়ে স্বামীর বাড়িতে সাথীর পাসপোর্ট পান। বাড়ির লোকজন জানায় সাথী গত ১৫ মার্চ ভারতে গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য এবং ১ মাস ১৩ দিন পর দেশে ফিরেছিল। এরপর ১৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। পাসপোর্টের সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে আনা হয় ওই নারীকে। ওই নারী সাথী বলে শনাক্ত করে তার পিতামাতা। পরিষ্কার হয় সে হত্যার শিকার হয়নি।

এদিকে উদ্ধার হওয়া সাথীর সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, তার স্বামী তাকে মারপিট করত তাই রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিল। তার পরিচিত মান্নুর ধর্ম পিতামাতার বাড়ি জলকরে ছিল। সে তাদের কাকা কাকি বলে ডাকত। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও একই কথা জানিয়েছে। অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেন তাকে পরিবারের জিম্মায় প্রদান করেছেন। মেয়ের পিতা উপজেলার নাইরা গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, আমি ছবি দেখে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেছিলাম। ছবিতে মেয়ের মতো লাগছিল। তাই পুলিশকে বলেছি দাফন করা লাশটি আমার মেয়ে সাথী খাতুনের। শনাক্ত করা আমার ভুল ছিল। তবে যে নারীর লাশ উদ্ধার করে অতঃপর আঞ্জুমানে মফিদুল দাফন করে। সে বিষয়ে পুলিশ অধিকতর তদন্ত করতে শুরু করেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।