দালান থাকা সত্বেও গুচ্ছ গ্রামে ঘর পেলো মারুফ, পায়নি ভূমিহীন রাসেল-সুমি দম্পতি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১ | আপডেট: ৬:২৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

গোবিন্দ মজুমদার, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:বাগেরহাটের চিতলমারীতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত পূর্বক একক গৃহ নির্মানের মাধ্যমে পূনর্বাসন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভূমিহীনরা। তাদের দাবী, যাদের পাঁকা বাড়ী আছে, আট চালের টিনের ঘর আছে এবং ৪০ শতকের অধিক নিজস্ব জমি থাকা সত্বেও ঘর পেয়েছে অনেকে। এছাড়াও পিতার নাম ভিন্ন দেখিয়ে আপন দুই ভাইয়ের ঘর পাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছে ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিতরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ঝালোডাংগা বাজারস্থ নির্মানাধীন গুচ্ছগ্রামে ঘর পেয়েছে উপজেলার ঝালোডাংগা গ্রামের মৃত নূরমোহাম্মদ খলিফার ছেলে মারুফ খলিফা। তার একটি উন্নতমানের সিরামিক দিয়ে নির্মানাধীন দালান রয়েছে। আবার আরুলিয়া গ্রামের সেকেন্দার খলিফার ছেলে মোজাফ্ফর খলিফার একটি নতুন আটচালের টিনের ঘর থাকা সত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পেয়েছে। পিতার নাম ভিন্ন দেখিয়ে ঘর বরাদ্দ পেয়েছে আপন দুই ভাই শাহাজাহান শেখ ও শেখ আঃ আলী ।
উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত পূর্বক একক গৃহ নির্মানের মাধ্যমে পূনর্বাসন সংক্রান্ত ছবি সম্বলিত তথ্য ছকে দেখা যায়, দালানওয়ালা ঘর মালিক মারুফ খলিফা তালিকার ১৭ নম্বরে রয়েছে। আট চালা নতুন টিনের ঘর মালিক মোজাফ্ফর খলিফা তালিকার ০৮ নম্বরে এবং পিতার নাম ভিন্ন দেখিয়ে ঘর পাওয়া দুই ভাই শেখ আঃ আলী ও শাহজাহান শেখের নাম তালিকায় যথাক্রমে ১৪ ও ১৬ নম্বরে রয়েছে।

অপরদিকে, নির্মানাধীন ওই গুচ্ছগ্রাম থেকে কয়েকশত গজ দূরে শেখ আতিয়ারের ছেলে শেখ রাসেল (৩৭), স্ত্রী সুমি বেগম ও তিন মাসের কন্যা নিয়ে জরাজীর্ণ এক কক্ষ বিশিষ্ট একটি গোল পাতার ছাউনির তলে বসবাস করছেন। সুমি বেগম জানায়, ২০০৭ সালে সিডরের সময় তাদের ঘর ভেঙে যায়। সর্বসাকূল্যে তাদের প্রায় ১.২৫ শতাংশ বসত ভিটা রয়েছে। অনেক দৌড়াদৌড়ি করেও প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাঁকা ঘর তারা পায়নি। এছাড়াও ভূমিহীন ঝালডাংগা গ্রামের সিদ্দিক সর্দারের ছেলে দীনমজুর রবিউল সর্দার, ওয়াবদার পাড়ে থাকা ভূমিহীন ত্রিনাথ মন্ডল, শেখ আতিয়ারের ছেলে সেকেন্দার শেখ, ঝালোডাংগা গ্রামের মজিদ খলিফার স্ত্রী পারভীন বেগম, পারডুমুরিয়া গ্রামের কালু সর্দার, আরুলিয়া গ্রামের মৃত নিরোদ হালদারের ছেলে দীনমজুর শিবক হালদার, পারডুমুরিয়া গ্রামের ভ্যান চালক ঠাকুর মন্ডল, আরুলিয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল মৃধার দেনার দায়ে দেশান্তর লতিফ মৃধা ঘর পাওয়ার দাবীদার হওয়া সত্বেও প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাঁকা বাড়ী পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ বাবুল হোসেন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য। সেখানে কোন দালানওয়ালা ব্যক্তি যদি গুচ্ছগ্রামে ঘর পায় সেটা দুঃখজনক।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম জানান, আমি চিতলমারীতে যোগদানের পূর্বে ভূমিহীনদের নামের তালিকা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে করা হয়। যার ”ক” তালিকায় ৪শত ৪১ জনের মধ্যে ১৭ জনের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাকী ক ও খ তালিকায় যাদের নাম রয়েছে পর্যায়ক্রমে তারাও ঘর পাবে।