দায়সারা সংস্কার, বিয়ানীবাজারে ৪ কোটির টাকার সড়কে ফাটল

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৮:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা: নতুন সংস্কার করা বিয়ানীবাজার-চন্দপুর সড়কে মেরামতের একমাস না যেতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ভোগান্তির পর নতুন সংস্কার হওয়া সড়কটির প্রথম অংশে চলতি বছরে সংস্কার শেষ হওয়ার মাস দিন যেতে না যেতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সংস্কার কাজ শেষ হবার এখনো মাস দিনে শেষ হয়নি তার আগেই বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের ভাটাবাজার (মাথিউরা বাজার) এলাকার মাদ্রাসা ও মসজিদের পুকুর সংলগ্ন অংশে বড় আকারে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল ধরা স্থানটি মূল রাস্তা থেকে ধেবে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া সড়কটির বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে খলাগ্রাম এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানেও ফাটল দেখা গেছে। পাশাপাশি পিচের কার্পেটিংয়েও অনিয়ম করা হয়েছে। সড়কের বেশ কিছু স্থানের পিচের কার্পেটিং উঁচু নিচু হয়ে গেছে। এলাকাবাসী জানান, যত সময় যাচ্ছে সড়কের ওই ফাটল বড় হচ্ছে। দীর্ঘ দুর্ভোগের পর সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় জনমনে স্বস্থি ফিরলেও সড়ক এমন দশায় এখন দেখা দিয়েছে শংকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারাভাবে সংস্কার করায় রাস্তা আবার ফাটল ধরেছে। শুধু সংস্কারের স্থানে নয়, ওই সড়কের কয়েক স্থানের পিচে নতুন করে ফাটল ধরেছে। রাস্তটি অনেক সরু ছিল। নতুন মাটি ফেলে রাস্তা চওড়া করা হয়েছে। কিন্তু মাটি ঠিকমতো রোলিং না করে রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হয়। তাছাড়া খুবই নিন্মমানের বিটুমিন-কোয়া ব্যবহার করা হয়েছে এই রাস্তায়।

স্থানীয় বাসিন্দা লায়ন সুহেল আহমদ রাশেদ জানান, সংস্কার কাজ শুরুর প্রথম থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহারসহ সংস্কার কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের বিটুমিন ও কোয়া দিয়েই সড়কের কাজ হয়েছে। মাটি ঠিকমতো রোলিং ও গাইড ওয়াইল নির্মাণ না করায় সড়কটিতে এখন দেখা দিয়েছে ফাটল। এ দায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকেও নিতে হবে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সোয়া ৪ কোটি টাকায় বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের প্রথম চার কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মেসার্স রাশিদুজ্জামান পিটার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। ওই বছরের অক্টোবরে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়। সড়কের এক কিলোমিটার অংশের মেকাডম শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় মাস। গত ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই দফায় কাজ চালু হয়েও বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষে গত অক্টোবর মাসে কাজ শুরু হয় এবং চলতি বছরের জানুয়ায়রিতে এসে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সড়কটির ভাটাবাজার অংশে ফাটল ধরা কিংবা ধ্বস নামার বিষয়টি আমার জানা নেই।’ কি কারণে ফাটল ও ধ্বস দেখা দিতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখতে হবে।’ তবে ধেবে যাওয়া ও ফাটল সৃষ্টি হওয়া স্থানটি পুনরায় মেরামত করে দেয়ার জন্য তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিচ্ছেন বলেও জানান।