দিল্লিতে ছেলেকে জোর করে মেয়ে বানিয়ে টানা ৩ বছর ধর্ষণ!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১ | আপডেট: ৯:০২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১
প্রতীকী ছবি

আবারও এক নির্মম ঘটনার সাক্ষী হল ভারতের রাজধানী দিল্লি। সেখানে ১৩ বছরের এক কিশোরকে জোর করে লিঙ্গ পরিবর্তন করিয়ে টানা তিন বছর গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত ওই কিশোরের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিয়েছে পুলিশ। কিন্তু এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক হয়নি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, ঘটনার সূত্রপাত তিন বছর আগে দিল্লির গীতা কলোনিতে। লক্ষ্মীনগর এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোর নাচের অনুষ্ঠান করত। একদিন কোন একটি নাচের অনুষ্ঠানে ছয় জনের একটি দলের সঙ্গে আলাপ হয় তার। তাকে আরো অনুষ্ঠানে নাচের সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ওই দলটি। পরে, মন্ডাবলীতে নিয়ে গিয়ে তাকে মঞ্চে অনুষ্ঠান করার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

এরপর ওই দলটির সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুরু করে নির্যাতিত কিশোর। তার জন্য পারিশ্রমিকও পেতে শুরু করে। নাচই যে তার ভবিষ্যৎ, সে কথা ওই কিশোরের মাথায় ঢুকিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। তাই ভালো ভালো নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চেহারা আকর্ষণীয় করে তোলার কথাও জানায় তাকে। সেই মোতাবেক শুরুর দিকে নানা ওষুধ খাওয়াতে শুরু করে। এক পর্যায়ে কিশোর এসব খেতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা জোর করে খাওয়াতে থাকে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এভাবে চলার পর একটা সময় তার শরীরে বেশ কিছু নারীসুলভ পরিবর্তন দেখা দেয়। এরপরই জোর করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারীতে রূপান্তরিত করা হয়।

পুলিশকে ওই কিশোর জানিয়েছে, শরীরে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার পর তাকে বন্দি করে ফেলে অভিযুক্তরা। তার পর ছয়জন মিলে ধর্ষণ করতে শুরু করে। এমনকি বাইরে থেকে লোক এনেও তার ঘরে ঢুকিয়ে দিতে থাকে। দিনের বেলায় ট্র্যাফিক সিগন্যালে রূপান্তরকামী সাজিয়ে তাকে ভিক্ষা করতেও বাধ্য করে তারা। পুলিশে গেলে তার পরিবারকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় তারা। তাই চুপচাপ সব অত্যাচার সহ্য করতে থাকে সে।

আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু দিন পর তার এক বন্ধুকেও অভিযুক্তরা ধরে আনে বলে পুলিশকে জানায় ওই কিশোর। ২০২০ সালের মার্চে লকডাউন চলাকালীন বন্দিদশা থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় তারা দু’জন। তারা সেখান থেকে বেরিয়ে প্রথম ভুক্তভোগীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেটা নিরাপদ নয় বুঝে বাড়ি ভাড়া করে তাদের অন্যত্র সরিয়ে দেন ওই কিশোরের মা। কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই বাড়ির খোঁজ পেয়ে যায় অভিযুক্তরা। ভাঙচুর চালিয়ে সেখান থেকে আবার তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আটকে রাখা হয় ওই কিশোরের পরিবারের লোকজনকে। তারপর দফায় দফায় তাদের দু’জনকেই আগের মতো ধর্ষণ করতে শুরু করে।

সম্প্রতি আবার পালিয়ে যায় ওই দুই কিশোর। অভিযুক্তদের আস্তানা থেকে বেরিয়ে নয়াদিল্লি স্টেশনে আশ্রয় নেয় তারা। তারপর এক আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তাকে পুরো ঘটনা বলার পর তিনিই দু’জনকে দিল্লি মহিলা কমিশনে নিয়ে যান। নির্যাতিত দুই কিশোরের জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।