দীঘিনালায় এবারও পালিত হচ্ছেনা বৈসাবি উৎসব

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১ | আপডেট: ৫:১৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১

আবদুল জলিল, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সামাজিকভাবে পালিত হচ্ছেনা চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উৎসব বৈসাবি ও বাঙালিদের পহেলা বৈশাখ। উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে উৎসব না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে ঘরে ঘরে দিবসটি পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে অনেকে। গতবছরও একই সমস্যার কারনে সামাজিকভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়নি।

বাংলা নববর্ষ ও তিন উপজাতি সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উৎসব বৈসাবি’কে কেন্দ্র করে আনন্দের হাওয়া বইতে শুরু করে দীঘিনালার বাতাসে। পাহাড়ি বাঙালি সম্প্রদায়ের মাঝে তৈরি হয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

প্রতিবছর ১২ এপ্রিল মাইনী নদীতে ফুল দিয়ে বৈসাবির উৎসব শুরু হয়। পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণের মধ্য দিয়ে পাড়ায় পাড়ায় চলে নানা আয়োজন। আনন্দ শোভাযাত্রা, মারমাদের পানি উৎসব ও ত্রিপুরাদের গড়িয়া নৃত্য থাকে এ উৎসবে। তাছাড়া বাঙালিদের মাঝেও থাকে নানা আয়োজন৷

বিগত বছরগুলোতে এ উৎসবকে সামনে রেখে দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে থাকতো ক্রেতাদের উপচে পরা ভীড়। হোটেলগুলো পর্যটকরা অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখতো। কিন্তু এ বছর চিত্রটা যেনো ভিন্ন।

দীঘিনালা ত্রিপুরা কল্যান সংসদের সভাপতি ঘনশ্যাম ত্রিপুরা মানিক বলেন, বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সামাজিকভাবে উৎসব আয়োজনের কোন সুযোগ নেই। এ পরিস্থিতিতে সকলের বেঁচে থাকাটা বেশি জরুরি। সকলে নিজ গৃহে ছোট পরিসরে দিবসটি পালন করবে।

২ নং বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা বলেন, বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক ছড়িয়ে পরেছে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিকভাবে বৈসাবি উৎসব পালন না করে ঘরে ঘরে পালন করাটাই উত্তম। তাছাড়া সরকারি সকল নির্দেশনা পালনে আমরা সদা প্রস্তুত৷

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, বৈশাখ ও বৈসাবি পালনের ক্ষেত্রে সরকারি কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে সামাজিক ও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশাখ ও বৈসাবি পালন না করতে নির্দেশনা আসতে পারে।