দীঘিনালায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে নির্মাণকাজ বন্ধ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩৬:অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

আবদুল জলিল, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির দীঘিনালার রশিক নগর দাখিল মাদ্রাসায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। অভিযোগ পেয়ে নির্মাণকাজ স্থগিত করে রেখেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস ব্রাদার্স সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভবনের বেইজ ঢালাইয়ের পর গর্ত ভরাট করা হয়েছে বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে। এছাড়ার নিম্ন মানের ইট,কংকর ও স্বল্প সিমেন্টে ঢালাই কাজ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ইউনুস ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রশিক নগর দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবনের এই নির্মাণ কাজ করছেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ভবনের নির্মাণ কাজ ঐ অর্থবছরের শুরু এবং শেষ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় ভবনের বেইজ ঢালাইসহ শর্ট কলাম ও কলাম নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। বেইজ ঢালাইতে নিম্ন মানের ২ নং কংকিট ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। বেইজ ঢালাইয়ের পর বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে মাটি দিয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির নির্মাণকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট এক মিস্ত্রি জানান, নির্মাণকাজে বৃষ্টির দিন ছাঁদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া স্বল্প সিমেন্ট ব্যবহার করায় ঢালাই ছিলো লাল। ঠিকাদার সিমেন্ট বাচিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলো৷ পরবর্তীতে অনিয়ম থেকে বাঁচতে কাজ ছেড়েছেন তিনি৷

স্থানীয় অবিভাবক আবদুল খালেক বলেন, এ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ঢালাইয়ের দিন স্বল্প সিমেন্টে ও ২নং কংক্রিটের ঢালাইয়ের সময় কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমি কাইয়ুমকে বলি। এ সময় আমার কথা না শুনলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবগত করি৷

স্থানীয় সাংবাদিক ইদ্রিছ আলী বলেন, ঢালাইয়ের দিন স্থানীয়দের অভিযোগে আমরা সেখানে ছুটে যাই। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজের সহকারি ঠিকাদার আবদুল কাইয়ুম দ্বায়িত্বরত প্রকৌশলী ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে ফেলবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মুহাম্মদ আজিজ উদ্দিন বলেন, প্রথম ছাঁদ ঢালাইয়ের দিন আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে ভবন নির্মাণে অভিযোগের কথা শুনেছি। দ্বিতীয় ছাঁদঢালাইয়ের সময় আমি উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ঠিকভাবে কাজ করতে বলেছি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ কাজ স্থগিত রেখেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আপনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করুন৷

খাগড়াছড়ির দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসিফুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে আপাতত নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছি। এ বিষয়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।