দুঃস্বপ্ন, শক্তি বাড়িয়ে বাস্তব জীবনের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে!

প্রকাশিত: 5:16 PM, December 2, 2019 | আপডেট: 5:16:PM, December 2, 2019

ঘুমের ভেতর দুঃস্বপ্ন দেখেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ভয়াবহ স্বপ্ন দেখতে দেখতেই মানুষ বাস্তব জীবনের দুঃসহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডের কয়েকজন গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে চালানো ওই গবেষণায় প্রথম দফায় ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে।

তাদের মস্তিষ্কের ভেতরে ইলেকট্রোড স্থাপন করে, মস্তিষ্কের রাত্রিকালীন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হত। মাঝে মাঝেই তারা প্রশ্নের উত্তর দিতে ঘুম থেকে জেগে উঠতেন। তাদেরকে প্রশ্ন করা হত, আপনি কি স্বপ্ন দেখছিলেন? যদি দেখে থাকেন, আপনি কি ভয় পেয়েছেন?

প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে গবেষকরা একটি প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছেন, দুঃস্বপ্ন দেখার সময় মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়, সেই অংশে তারা কিছু অতিরিক্ত কার্যক্রম লক্ষ্য করেছেন তারা।

দ্বিতীয় ধাপের গবেষণায় তারা ৮৯ জন স্বেচ্ছাসেবককে এক সপ্তাহ ধরে তাদের দেখা স্বপ্নগুলো লিপিবদ্ধ করতে বলেছিলেন। সেখান থেকে নেতিবাচক বা ভয়ংকর কোনো বর্ণনা পেলে তাদেরকে একটি ম্যাগনেটিক রিসোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই) এর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল। সেখানে তারা খুঁজে পেয়েছেন, যারা দুঃস্বপ্ন দেখেন তাদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রক ইউনিট অন্যদের চেয়ে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সাড়া দেয়। এই ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব প্রামাণ্যভাবে খেয়াল করা গেছে।

সকল পরীক্ষা শেষে দেখা যায় অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দুঃস্বপ্ন দারুণভাবে সাহায্য করে। যারা দুঃস্বপ্ন দেখেছে তারা ভয়াবহ পরিস্থিতি ভালোভাবে মুকাবিলা করতে পারে। অন্যদিকে যারা আরাম করে ঘুমান, তারা ভয়াবহ পরিস্থিতি সামলাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন।

গবেষণা দলের সদস্য স্টেরপ্যানিচ বলেন, যারা ঘুমের মধ্যে ভয়াবহ স্বপ্ন দেখেন তাদের মস্তিষ্কের গভীরে থাকা ইনসুলা, আমাদের নার্ভের সঙ্গে জড়িত সিঙ্গুলেট ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত এমিগডালার সঞ্চালনার পরিমাণ কমে যায়। অর্থাৎ তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতি মানসিক ও স্নায়ুবিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বেড়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, তাদের মস্তিষ্ক খারাপ পরিস্থিতি মুকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে। এ কারণে প্রতিক্রিয়া কম দেখায়।

তাহলে কি দুঃস্বপ্ন আমাদের জন্য ভালো, নাকি খারাপ?

সুত্র: ডেইলি মেইল।