মোরেলগঞ্জে দুই আ. লীগ নেতার জানাজায় বিশৃঙ্খলা: জানাজা না পড়েই চলে যেতে বাধ্য হলেন এমপি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিহিদার আনছার আলীসহ যুবলীগ সদস্য শুকুর শেখের জানাজা মঙ্গলবার বিকেলে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে।

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানাজায় আসার পর পরই বিশাল জনতার তোপের মুখে পড়ে জানাজা ছাড়াই চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ ব্যারিকেট দিয়ে তাকে জানাজার স্থান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

দৈবজ্ঞহাটী কলেজ মাঠে বিকেল ৫টায় দিকে জানাজায় জন্য দুই নেতার কফিন নিয়ে আসা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামানসহ জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ-ই-আলম বাচ্চু, অ্যাড. আলী আকবর, অ্যাড. সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক এমদাদুল হকসহ অন্যান্য নেতারা জানাজার মাঠে উপস্থিত হন। এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখার পরক্ষণেই বাগেরহাট-৪ আসনে সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন বক্তব্য রাখার চেষ্টা করলে জানাজায় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ হাজারো জনতা প্রতিবাদে ফেঁটে পড়ে। তিনি এ সময় জনতার প্রবল প্রতিবাদের মুখেও বক্তব্য দিতে চাইলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে উদ্দেশ্য করে এলোপাতাড়ি জুতা ছুঁড়ে মারে। এতে করে জানাজা পণ্ড হওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশসহ পুলিশের টিম সংসদ সদস্যকে ঘটনাস্থল থেকে সেফ করে নিয়ে যায়।

এ দুই নেতার জানাজায় উপস্থিত মোরেলগঞ্জ-শরণখোলাসহ বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও হাজারো জনতা খুনিদের ফাঁসির দাবি করে শ্লোগান দেয়। জানাজায় নিহত দিহিদার আনছার আলী ভাই কুদ্দুস দিহিদার, ছেলে শাওন দিহিদার ও নিহত শুকুর শেখের ছেলে খুনিদের ফাঁসির দাবি করেন।

জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পোলেরহাট স্ট্যান্ডে একটি গ্রুপ ব্যারিকেট সৃষ্টি করে এবং জেলা পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন খানসহ কয়েকজনকে মারপিট করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ সমর্থিত অনেক নেতাকর্মী হামলার ভয়ে মোরেলগঞ্জে আসতে পারেনি। অপরদিকে শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকনের গাড়ি মোরেলগঞ্জ ফেরিতে উঠতে বাধা দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে চেয়ারম্যান শহিদুল ফকিরের নেতৃত্বে তার লোকজন দৈবজ্ঞহাটী বাজার, বাড়ি থেকে দিহিদার আনছার, শুকুর শেখ ও বাবুল শেখকে ধরে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চর্টার সেল হিসেবে পরিচিত কক্ষে নিয়ে বোরকা পরিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসাপাতলে নিয়ে আসে। বাগেরহাট হাসপাতালেই গুরুতর আহত শুকুর শেখ মারা যায়। অপর গুরুতর আহত দিহিদার আনছার আলী ও বাবুল শেখকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যে আনছার দিহিদার মারা যায়।