দুই টিকার ২ ডোজ টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২১ | আপডেট: ৪:৪৯:অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২১
ফাইল ছবি

ধরুন প্রথম ডোজ নিলেন এক সংস্থার টিকার। আর দ্বিতীয়টি ভিন্ন সংস্থার?‌ তাহলে কী হয়?‌ আদৌ কি এ রকম করা সম্ভব?‌ এতে কি রোগীর জীবনে ঝুঁকি বাড়ে?‌ কোভিড প্রতিরোধও কি আদৌ সম্ভব?‌

এই প্রশ্নই ঘুরছিল গবেষকদের মনে। যেই ভাবা সেই কাজ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক বিষয়টি হাতেকলমে করেও দেখেন। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত হল সেই গবেষণা।

প্রথম ডোজ যাঁরা অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং দ্বিতীয় ডোজ ফাইজার সংস্থার নিয়েছিলেন, তাঁদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটু বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। যেমন দুর্বলতা, মাথা ধরা।

ভিন্ন সংস্থার টিকা নিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে ১০ শতাংশেরই এই অবস্থা। তবে গুরুতর কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। সেখানে একই সংস্থার টিকা নিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশের মধ্যেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশিদিন স্থায়ী হয়েছে।

যদিও দুই সংস্থার টিকা দেওয়ার ফলে কোভিড প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা বাড়ল বা কমল, তা এখনও জানা যায়নি। তা নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে। যাঁরা একই সংস্থার টিকার দু’‌টি ডোজ দিয়েছেন, তাঁদের থেকে ভিন্ন সংস্থার টিকা দেওয়া রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি না কম, তা পরীক্ষাসাপেক্ষে পরবর্তী জানা যাবে বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট ম্যাথিউ স্নেপ।

তবে বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এক জন রোগীকে দুই সংস্থার টিকা দিলে কোনও সমস্যা না হয়, তাহলে কিছুটা সুবিধাই হবে। কারণ মধ্য বা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে টিকার যথেষ্ট আকাল। দু’‌টি ডোজ একই সংস্থার যদি না দিতে হয়, তাহলে টিকাকরণের গতি বাড়বে। নির্দিষ্ট সংস্থার টিকার জন্য কাউকে বসে থাকতে হবে না।

এই যেমন ফ্রান্সে বেশিরভাগ মানুষকে প্রথম ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার দেওয়া হয়েছিল। পরে শুধু প্রবীণদের জন্য এই সংস্থার টিকা বরাদ্দ হয়। তখন অনেক নবীনকে ফাইজারের টিকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ে এবার আর সমস্যা থাকবে না।

সূত্র: আজকাল