দুই বাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চলছে

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত: ১২:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটি মনে করছে, এ অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ এই ঘটনাটি ‍দুই বাহিনীর মধ্যেকার সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। দুই বাহিনীই অতীতের মতো দেশের সেবায় একযোগে কাজ করে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের নিহত হওয়ার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত। এই ঘটনায় সারা দেশের ন্যায় পুলিশের প্রতিটা সদস্য দুঃখিত ও মর্মাহত। এ ঘটনাকে উপজীব্য করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানারকম অপপ্রচার চালিয়ে আইনি কার্যক্রমকে প্রভাবিত ও বাধাগ্রস্ত করার জন্য তৎপর রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ দুটি পেশাদার বাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর এ অপচেষ্টা দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশপ্রধান যৌথ প্রেস ব্রিফিং-এ দৃঢ়ভাবে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে, তার জন্য ব্যক্তিই দায়ী থাকবেন, প্রতিষ্ঠান দায় নেবে না। অ্যাসোসিয়েশন এই বক্তব্যকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানাচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ গভীরভাবে বিশ্বাস করে অতীতের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী দিনগুলোতে দেশ ও মানুষের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডে টেকনাফের বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ।

গত ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরিদর্শক লিয়াকত আলী, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এদের মধ্যে সাতজন আদালতে আত্মসমর্পনের পর কারাগারে রয়েছেন। তাদের সবাইকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যা ব।

এ দিকে এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার তিন সাক্ষীকেও গ্রেপ্তার করেছে র্যা ব। তাদেরকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।