দুদকের সুপারিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৪৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯
সংগৃহীত ছবি

‘দুর্নীতি ও অনিয়ম’ দূর করতে দুদকের সুপারিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (পার-২) এ কে এম ফজলুল হক খান স্বাক্ষরিত বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা বদলি করা কর্মস্থলে যোগ না দিলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে গণ্য হবে।

বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তারা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন:

ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান (পরিসংখ্যানবিদ) মীর রায়হান আলী। তাকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হাসানকে রাঙামাটি, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়ি, প্রধান সহকারী সাজেদুল করিমকে সিরাজগঞ্জ ও উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমানকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাইফুল ইসলামকে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী ফয়জুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রধান সহকারী মাহফুজুল হককে নেত্রকোনা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং কম্পিউটার অপারেটর আজমল খানকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, প্রধান সহকারী-কাম হিসাবরক্ষক আব্দুল কুদ্দুসকে ভোলার চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়।

সিলেটের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের প্রধান সহকারী নুরুল হককে জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গৌস আহমেদকে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়, উচ্চমান সহকারী আমান আহমেদকে কুড়িগ্রামের চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর নেছার আহমেদ চৌধুরীকে নেত্রকোনার বারহাট্টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদ হোসেনকে বদলি করা হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর অফিস সহকারী মো. মাসুমকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেন নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে বদলি করা হয়।

বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. রাহাত খান মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিস, উচ্চমান সহকারী মো. জুয়েল কক্সবাজারের মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

রংপুর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমান শেরপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়, স্টেনোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিসে বদলি হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পাওয়ায় এসব বন্ধের জন্য মন্ত্রণালয়ে ২৫ দফা সুপারিশ করে দুদক। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে এসব সুপারিশ তুলে দেন দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব খাতে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে, এমন ১১টি খাত আমরা ধরতে পেরেছি। এসব জায়গা থেকে কীভাবে দুর্নীতি নির্মূল হবে তার জন্য ২৫টি সুপারিশ আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিতে এসেছি। আমরা মনে করি, তারা যদি এ বিষয়ে আরো যত্নবান হন, তাহলে স্বাস্থ্য খাত থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা জানি, প্রতিরোধ করলে প্রতিবাদের দরকার হয় না। আমাদের সরকার যেহেতু জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে, আমরা দুর্নীতির বিষয়ে আরো কঠোর হবে। দুর্নীতি ঠেকাতে না পারলে উন্নত দেশ গড়ার কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। সরকার এখন ‘‘দুর্নীতিকে না বলুন’’ নীতিতে চলছে। দুদকও একই নীতির সঙ্গে কাজ করে। আমরা আশা করি, এসব তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করে দেখবে। তারা এটা সাদরে গ্রহণ করবে।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্রয়, সেবা, নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহ প্রভৃতি।

দুদকের ২৫ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- তথ্যবহুল সিটিজেন চার্টার, মালামাল রিসিভ কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সংস্থার সদস্যদের অন্তর্ভূক্তি, ওষুধ ও মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইজিপিতে টেন্ডার অনুসরণ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতাল স্থাপন ও অনুমতি প্রদানর ক্ষেত্রে নিজস্ব স্থায়ী চিকিৎসক/ কর্মচারী ও কার্যনির্বাহী কমিটি ইত্যাদি রয়েছে কি না এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

বদলির নীতিমালা প্রণয়ন, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম না লিখে জেনেরিক নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা, ইন্টার্নশিপ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা এবং বর্ধিত এক বছর উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে পিএসসি এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক (স্থাস্থ্য) এবং পিএসসির প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ প্রদান করা যেতে পারে বলে যোগ করা হয় দুদকের প্রতিবেদনে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দুদকের দেওয়া প্রতিবেদন আমরা স্টাডি করব। আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। তারা যেসব সুপারিশ করেছে তাও আমরা বিবেচনায় নিয়ে প্র্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যেহেতু দুর্নীতি থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় না, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির কোনো আঁচর যাতে না থাকে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করব। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, এখন থেকে প্রয়োজন ছাড়া কোনো বদলি হবে না। যাকে যেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হবে তাকে সেখানে বদলি করা হবে, তাছাড়া কোনো বদলি নয়। কোনো তদবিরে বদলি হবে না। আমরা হাসপাতালগুলোর সেবা বিষয়ে একটি মনিটরিং সেল করেছি। তারা সেবা বিষয়ে কাজ করছে। আশা করছি, খুব কম সময়ের মধ্যে আরো উন্নতি হবে।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।