দুদক হইলো এক নম্বর জালিয়াত, দুদকের কঠিন বিচার চাই আমি: জাহালম

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ | আপডেট: ১১:১৮:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯
সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের ভুলে তিন বছর কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন পাটকল শ্রমিক জাহালম। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ থেকে মুক্তি পান।

এসময় কারাফটকে সাংবাদিকদের জাহালম বলেন, ‘দুদক যেভাবে মিথ্যা মামলা দিয়া মানুষরে হয়রানি করতাছে, দুদক হইলো এক নম্বর জালিয়াত। সঠিক তদন্ত না কইরা যানি (যেন) লোক ধরে না তারা। সঠিক তদন্ত নিয়া তারপর লোকদের মামলার আসামি করুক।’

তিনি বলেন, আমি কোনো অপরাধ করি নাই। তিন বছর দুদক আমারে আটকা রাখছে মামলা দিয়া- মিথ্যা মামলা দিয়া। আমি দুদকের কঠিন বিচার চাই। ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে জাহালম বলেন, আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হইছি। আমি ক্ষতিপূরণ চাই রাষ্ট্রের কাছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

বন্দিজীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জজ স্যাররে বলছিলাম যে, আমি এই মামলার আসামি না। আমি আবু সালেক (প্রকৃত আসামি) না, আমি জাহালম। কিন্তু তিনি আমার কথা বিশ্বাস যায়নি (করেননি)।’

‘জজ সাহেব দেখছে যে, এই ছবি আর এই ছবি মিলছে, কয় আমি বলে সেই লোক। আর সাক্ষীরা তারাও বলে আমি সেই (আবু সালেক) লোক। কিন্তু আমি তো সেই সময় কোনো কিছুই জানি না।’

বিনা দোষে শাস্তি পাওয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবার বিচার দাবি করে জাহালম বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে বিচার চাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে।’ জেলগেটে এ সময় তার ভাই শাহানূর মিয়া বলেন, যাদের ভুলের কারণে তার ভাই জেল খেটেছে তিনি তাদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চান।

পরে একটি মাইক্রোবাসে উঠে দুই ভাই কারা এলাকা ত্যাগ করেন। প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে টাঙ্গাইলের জাহালমকে।