দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্প্লেক্সে বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকা হরিলুট

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৬:০৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

মো. নাঈম হোসেন, দুমকি ও পবিপ্রবি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকা গায়েব করে ফেলেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোজাহেদুল ইসলাম। কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার(সিবিএইচসি) অপারেশনাল প্লানের অাওতায় বরাদ্দকৃত ৩০ লক্ষ টাকা ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী দিলরুবা অাক্তারের যোগসাজশে ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে উত্তোলন করেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ৪৮৭৫ নম্বর কোডের অাওতায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ১০ লাখ টাকা ও ৪৮৯৯ কোড নম্বরের আওতায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়। পরিচ্ছন্নতার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।

হাসপাতালের ইনডোর, অাউটডোরসহ সকল স্থানেই অত্যন্ত নোংরা পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। নোংরা পরিবেশসহ দূর্গন্ধের কারনে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান অাহমেদ। তিনি জানান, হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।

এদিকে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকার হদিস মেলাতে করা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোন কাজই করা হয়নি। অপরদিকে অন্যন্য খাতের জন্য উত্তোলন করা ২০ লাখ টাকা দিয়ে কয়েকটি স্টিলের অালমারি, চেয়ার, ফ্যান ও কিছু তৈজসপত্র কেনা হয়েছে। যার অানুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। বাকি টাকার কোন হদিস মেলেনি। ভূয়া ভাউচার তৈরী করে সিভিল সার্জনের সাথে যোগসাজশে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্প্লেক্সটির ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী দিলরুবা অাক্তারের বিরুদ্ধে।

হাসপাতালে গিয়ে সরকারী বরাদ্দের অর্থ খরচের ভাউচার দেখতে চাইলে তা দেখাতে ব্যর্থ হন তিনি। এসময় অফিস সহকারী দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, অর্থ খরচের বিল ভাউচার সিভিল সার্জনের কাছে। তিনি অামাকে দেন নি। টাকা কিভাবে উত্তোলন করা হয়েছে তাও আমি জানি না। তবে তার স্বাক্ষর ছাড়া কিভাবে ভাউচার তৈরী করা হলো এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তিনি। যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, অর্থ খরচের সব ভাউচার অফিস সহকারী দিলরুবার কাছে অাছে। আমাদের যৌথ স্বাক্ষরেই ভাউচার তৈরী করা হয়েছিল। পরে বিল ভাউচার দেখাতে কিছু দিন সময় চান এ কর্মকর্তা। এসময় ৩০ লাখ টাকা খরচের খাতগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলেও কোন তথ্য দিতে পারেননি তিনি।