দুমকিতে এসএসসি’র ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৫৯:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৮

মো. নাঈম হোসেন, দুমকি ও পবিপ্রবি(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে বিপাকে পড়েছেন অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধানশিক্ষকদের যোগসাজসে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, এসএসসির ফরম ফিলাপের সময় স্কুলের উন্নয়ন ও কোচিং ফি বাবদ তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১২’শ থেকে ১৫’শ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে জামানত নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তর মুরাদিয়া বশিরিয়া দারুছুন্নাত আলীম মদ্রাসা, গনি শিকদার দাখিল মাদ্সা্‌ ও চরগরবদি অাবুল কাশেম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরম পূরণের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন যার ভিডিও ফুটেজ এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। কোচিং ফি ও উন্নয়ন ফি বাবাদ অতিরিক্ত অদায়ের বিষয়টি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণও স্বীকার করেছেন।

বশিরিয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কাদের বলেন, বেতন ও অন্যান্য ফিসহ আমরা মোট ২৫’শ টাকার মত নিয়েছি।

জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. ইউসুফ আলী জানান, তার বিদ্যালয় কোচিং ফি বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি ১ হাজার টাকা আদায় করেছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দুমকিতে এসএসসি’র ফরম পূরণে অনিয়ম ঠেকাতে মনিটরিং সেল গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারী নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করাসহ কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে অাইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এ মনিটরিং কমিটি।
Add Image
উপজেলার মোট ৫টি ইউনিয়ন লেবুখালী, শ্রীরামপুর, মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া ও পাঙ্গাশিয়া এলাকার বিদ্যালয়গুলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক পৃথক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মনিটরিং সেল গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির আহবায়ক রায়হান আহমেদ বলেন, কর্মকর্তাদের মাঝে ইউনিয়ন ভিত্তিক দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। কোথাও বোর্ড নির্ধারিত ফি ব্যাতিত অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। এদিকে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা।