দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০ | আপডেট: ৮:২১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনা ভাইরাস কার্যত পুরো বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। দিন দিন এর ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে। পুরো বিশ্ব এক আতঙ্কে নিমজ্জিত হয়েছে। মানুষ হয়ে পড়েছে গৃহবন্দী।

রোগটি যেমন শারীরিকভাবে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে ঠিক তেমনি হটাৎ গৃহবন্দী হয়ে মানুষের জীবন স্থবির হয়ে গেছে। কেউ কেউ বিরক্ত ও হতাশ হয়ে পড়ছে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মুহুর্তে নির্মম সত্য হচ্ছে কোনভাবেই ভাইরাসটিকে বিস্তৃত হতে না দেয়া যা শুধুই সম্ভব পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা, সচেতন হওয়া এবং হাসিমুখে পরিস্থিতি (গৃহবন্দী জীবনটিকে) মেনে নেয়া। যদি তা না করি তাহলে এর ভয়াবহতা সবকিছু কেড়ে নেবে। তাহলে দেখি এই পরিস্থিতিতে –

 *যদি ভাইরাসটিকে নিয়েই সারাক্ষণ ভাবি বা আলাপ করি তাহলে রোগটি আমার স্বাভাবিক চিন্তার ধারা ব্যহত করবে এবং আস্তে আস্তে আমার মধ্যে আতংকজনিত রোগ (চধহরপ উরংড়ৎফবৎ)বাসা বাধবে। যা পরবর্তীতে জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে

* যদি বর্তমান গৃহবন্দী পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করি বা দেখি তাহলে আস্তে আস্তে রাগের সমস্যা, বিষন্নতা (উবঢ়ৎবংংরড়হ), অস্বাভাবিক আচরণগত সমস্যা বা রোগ হতে পারে যা পরবর্তীতে জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে

* যদি রোগটি নিয়ে সারাক্ষণ ভয় ও তটস্থ থাকি তাহলে নিজের সাথে সাথে পরিবারের ছোট্ট সদস্যটিও আতংকগ্রস্থ হবে যা তার ছোট্ট মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং পরবর্তীতে সেও আতংকজনিত সমস্যায় ভুগতে পারে। পাশাপাশি রাগ, জিদ এর সমস্যা বেড়ে যেতে পারে যা পরবর্তিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাবে

সর্বোপরি যদি বর্তমান পরিস্থিতি (গৃহবন্দী) অবস্থা একটি অপ্রত্যাশিত সুযোগ হিসেবে দেখি এবং সুযোগটি যথাযথভাবে কাজে লাগাই
তাহলে –

* পূর্ববর্তী জমে যাওয়া কাজগুলো শেষ করতে পারি

* পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতে পারি এবং নিজের ভ‚মিকাগুলো পালন করতে পারি যা অন্য সময় করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি

* পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারবো যা গৃহবন্দী অবস্থার পরবর্তী সময়ে কাজ করতে সহায়তা করবে এবং মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখবে

* অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস রোগটির প্রতি সচেতনতা তৈরী করে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারি

* আত্মীয়-স্বজনও বন্ধু-বান্ধব যাদের সাথে ব্যস্ততার কারনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না তাদের সাথে ফোনে বা ইন্টারনেট এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে খোজখবর নিতে পারি

* এই সুযোগে পরিবারের প্রতিটি সদস্যরে পরিষ্কার পরিছন্নতার অভ্যাস তৈরী হয়ে যেতে পারে যা সব সময়ের জন্য স্বাস্থ্যকর

 

সর্বোপরি এই অনাকাংখিত পরিস্থিতিতে আমার দৃষ্টিভঙ্গি বা চিন্তার ধরন ঠিক করে দেবে আমি কেমন থাকবো। আসুন ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এই অনাকাংখিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে সুস্থ থাকি এবং এই যুদ্ধে জয়ী হই।

মো. আমির হোসেন
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট
মনোযত্ন কেন্দ্র
স্বাস্থ্য সেক্টর, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।