দু-এক দিনের মধ্যে নতুন পাসপোর্ট পাবেন খালেদা জিয়া

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, মে ৭, ২০২১ | আপডেট: ১১:৪৩:পূর্বাহ্ণ, মে ৭, ২০২১
বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এমআরপি পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট ও আবেদনকারীর স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তাকে বিনা ফিঙ্গার প্রিন্ট ও স্বাক্ষরে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তার পক্ষে আবেদন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পাবেন’।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার এ নিয়ে দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়।

তবে বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের পরিচালক (পাসপোর্ট ও ভিসা) সাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের আবেদন অধিদফতরে পৌঁছেনি। আবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্র জানায়, বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টর (এমআরপি) আবেদন জমা নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ই-পাসপোর্ট আবেদন জমা নেওয়া ও বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ই-পাসপোর্ট পাওয়া প্রক্রিয়াগত কারণে সময়সাপেক্ষ। বিশেষ ধরনের এই পাসপোর্টে আবেদনকারীর ১০ আঙুলের ছাপ এবং চোখের মণির ছাপ নেওয়া হয়। খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এসব কার্যক্রম শেষ করা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এজন্য তাকে এমআরপি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত না হয়েই কার্যক্রম শেষ করা যাবে।

চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট ফিও জমা দেওয়া হয়েছে। আর এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে বলা হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে তার পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন তার বাসভবন ফিরোজায় আরও ৮ জন ব্যক্তিগত স্টাফও করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে।

পরে গত সোমবার (৩ মে) সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। প্রায় আড়াই বছরের মতো কারাগারে ছিলেন তিনি। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয়। দুই দফায় এ মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর তিন মাসের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। এরপর খালেদা জিয়া আর কোনো দেশে যাননি।