দেশরত্ন শেখ হাসিনা : বেহুলা বাংলার ফিনিক্স মানবী

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৭:৫৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

মৃত্যু কূপ থেকে বাঙালির ঘুরে দাঁড়াবার প্রেরণার নাম শেখ হাসিনা। আজকের আলোকিত ভোরের নাম শেখ হাসিনা। ধার্মিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার এক অপূর্ব সংশ্লেষের নাম শেখ হাসিনা। একটি সংগ্রামী উপাখ্যানের নাম শেখ হাসিনা। একজন সত্যিকার মানবতাবাদী রাষ্ট্রপ্রধানের সবচেয়ে ভালো উপমার নাম শেখ হাসিনা। একজন আলোকিত ও পরিপূর্ণ মানুষের নাম শেখ হাসিনা। আজ সারা বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে যাঁর দিকে তাঁকিয়ে থাকেন, তিনি শেখ হাসিনা। একজন ম্যাজিক্যাল লেডি শেখ হাসিনা।

একদিন আমরা বিপন্ন মানুষ ছিলাম। সেই একদিন আজ অতীত। নীরবে নিভৃতে শত যন্ত্রণা সয়ে, নিজের সকল আশা-আকাঙ্খা বিসর্জন দিয়ে, পিতার স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশের গল্প লিখে চলেছেন জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা। অথচ, তাঁর শুরুর পথটা ছিল ভয়ানক কন্টকাকীর্ণ। এই পথ চলায় তিনি কখনো হোঁচট খেয়েছেন, কখনো বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন,কখনো পরাজিত হয়েছেন। তবুও থেমে থাকেন নি। নানা প্রতিকূলতা এবং ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি জনগণের নেতা হয়েছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা হয়েছেন।

শৈশব থেকেই জননেত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতি সচেতন ছিলেন, মনে-প্রাণে একজন খাঁটি বাঙালি ছিলেন। বাঙালি কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধারণ করতেন, যা তিনি আজও সংরক্ষণ করে চলেছেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেল থেকে মুক্তি পাবার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা বাবার গলা ধরে বলেন, ‘আব্বা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্ধীদের মুক্তি চাই’। অথচ আজকালকার মেয়েরা এই বয়সে কানামাছি, গোল্লাছুট, বউচি, প্রজাপতির পেছন ছোটা, পুতুল খেলায় ব্যস্ত থাকে। একবার ভাবুন, সেই শিশু বয়স থেকেই আমাদের নেত্রী কতোটা রাজনীতি সচেতন ছিলেন, কতোটা বাঙালিয়ানা লালন করতেন। তিনি রাষ্টভাষা বাংলার কথা বলেছেন, রাজবন্দিদের মুক্তির কথা বলেছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রলীগের মনোনয়নে ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছিলেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আজীবন সদস্য। ছাত্ররাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত থাকায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে দেশের সকল গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দেশের বাইর থাকায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা সেদিন প্রাণে বেঁচে যান। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেয়া হয়, পাশাপাশি খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

হরণ করা হয় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। স্বাধীনতাবিরোধী এবং স্বৈরশাসকের দুঃশাসনে ম্লান হতে থাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। অন্ধকার নেমে আসে জাতির জীবনে। এমতাবস্থায়, জাতির পিতার হত্যার বিচার, মহান মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরশাসকের কবল থেকে বাংলার মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরেন জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থে লিখেছেন, “ঐদিন বিকেলে ঢাকায় একটু একটু ঝড়বৃষ্টি হয়। যাহোক, ঢাকায় পৌঁছেই রাত এগারোটার দিকে হাসিনা আমাকে টেলিফোনে জানায় যে, সেদিন সভাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ হতে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর পর্যন্ত ছিল লোকে লোকারণ্য।”

তিনি আরও লিখেছেন, ঐদিন তাকে সম্বর্ধনা জানানোর জন্য ১০-১২ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সূত্রে বলা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মতে, ওই দিন ঢাকায় অন্যূন ১৫ লাখ লোকের সমাগম হয়েছিল।

পরম একাগ্রতা এবং নিষ্ঠার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যান বাংলার মানুষের জন্য। কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় স্বাধীনতাবিরোধী এবং স্বৈরাচার শাসকের হামলার শিকার হন আমাদের নেত্রী। তাঁকে লক্ষ্য করে বারবার গুলি এবং বোমাবর্ষণ করা হয়। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন এবং মুক্তিকামী মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে থাকেন বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য। হয়ে ওঠেন গণমানুষের নেত্রী, বাংলার দুঃখী মানুষের নেত্রী।

শত বাধা-বিপত্তি এবং নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল। তাঁর সুদক্ষ, প্রাজ্ঞ এবং সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাদের টানা তিন মেয়াদসহ মোট চারবার সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ ফিরে পেয়েছে গণতন্ত্র এবং বাক-স্বাধীনতা, বাংলাদেশ পেয়েছে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। দেশ আর্থ-সামাজিক খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয়তায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

পিতার মতই সাহস, অসীম ধৈর্য্য এবং দূরদৃষ্টি নিয়ে এসব পরিস্থিতি তিনি মোকাবিলা করেছেন। পদে পদে প্রতিপক্ষের চক্রান্ত, ব্যক্তি স্বার্থে দল ও দেশের স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে নিজ দলের ‘সংস্কারবাদী’ সাজা ও সেই সাথে “মাইনাস টু” ফর্মুলার নামে রাজনীতি থেকে কার্যত শেখ হাসিনাকে নির্বাসিত করা । এছাড়া ছিল আন্তর্জাতিক বৈরী শক্তির নানামুখী চাপ এবং তথাকথিত এলিট শ্রেণীর একটা অংশের কারসাজি। সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করে দিয়ে শেখ হাসিনাকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগুতে হয়েছে।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো ছিল: ভারতের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন। এছাড়া, তিনি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি- দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করেন।

২০০৯-২০১৩ মেয়াদে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস, জাতিসংঘ কর্তৃক শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ ইত্যাদি।

২০১৪ সালের পর এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন, মাথাপিছু আয় ১,৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ৩৮ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন শুরু। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে মানবতার নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জননেত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে ‘Mother of humanity’ উপাধিতে ভূষিত হন।

বর্তমানে মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত জাতির এই ক্রান্তিলগ্নেও আওয়ামী লীগ সরকার সফলতার সাথে সবকিছু মোকাবিলা করছে। কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত সকল শ্রেণী পেশার মানুষের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে লক্ষাধিক কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনায় সারাদেশে আওয়ামী লীগ এবং এর ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। দুস্থ ও অভাবগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া থেকে শুরু করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিনামুল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ এখন আর সাহায্যগ্রহীতা নয়, সাহায্যদাতা দেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশ আর্থসামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। প্রিয় নেত্রী তাঁর সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভ্যাকসিন হিরো’, ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’, ‘স্টেট ম্যান’, ‘স্টার অব ইস্ট’ ইত্যাদি সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করে।

“মৃত্যু কূপ ও ছাই থেকে জন্ম নেয়া
বেহুলা বাংলার ফিনিক্স মানবী,
নূহের নৌকা নিয়ে নেমে আসে
আইলা সিডরের বিপন্ন বাংলায়!!

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থাও সম্মানিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার প্রদান করে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘Pearl S. Buck’, ‘সেরেস’, ‘মাদার টেরেসা’, ‘Medal of Distinction’, ‘Head of State’, ‘Champions of the Earth’, ‘শান্তিরবৃক্ষ’, ‘ইন্দিরা গান্ধী পদক’, এবং ২ বার ‘সাউথ সাউথ পদক’সহ মোট ৪০টির মতো দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।

দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছেন আজকের পরিপক্ব রাজনীতিবিদ ‘শেখ হাসিনা’। প্রবল দেশপ্রেম এবং গণমানুষের প্রতি তীব্র দায়বদ্ধতা ‘জননেত্রী’ হিসেবে তাকে পরিচিত করেছে। আমেরিকান লেখক জন ক্যালভিন ম্যাক্সওয়ালের ভাষায়-

“The pessimist complains about the wind. The optimist expects it to change. The leader adjusts the sails.”

একজন দক্ষ নেতার মতো ‘sails adjust’ করেই দেশ ও দেশের মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে যাচ্ছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা; আবির্ভূত হয়েছেন বাঙালির ‘বাতিঘর’ হিসেবে। এই গভীর সংকটের সময় শেখ হাসিনার মতো একজন সাহসী, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতাকে আমরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে পেয়েছি, এজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সর্বশেষে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে বিশ্বনেতারা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। ইনশাআল্লাহ্ প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উন্নত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।
জয় বাংলা ।

লেখক: রায়হান রিয়াজ (তপু)
শিক্ষার্থী-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
বাংলাদেশি ডেলিগেটস -ইয়ুথ ইন্টারন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড ন্যাশনস ।
ই-মেইল: [email protected]

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ টুডে এবং বাংলাদেশ টুডে-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)