দেশের আট জেলায় ১৯৩ জনের দেহে এইডস শনাক্ত

প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলায় অন্তত ১৯৩ জন এইচআইভির জীবাণু বহন করছেন। শুধু খুলনা জেলাতেই ৮৪ জনের শরীরে এইচআইভির জীবাণু শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৩ পুরুষ ও ৩১ নারী রয়েছেন।

খুলনা বিভাগে এইডস নিয়ে কাজ করা ‘মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণাঞ্চল ও সংলগ্ন জেলা ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল ও মাগুরায় ১০৯ জন এইডসে আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি জীবাণু ছড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ভারত থেকে ফিরে আসা। আক্রান্তের তালিকায় দুই-একজন হিজড়ার নাম রয়েছে। তবে এই অঞ্চলে যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীদের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

প্রতি বছর এইডস আক্রান্ত হয়ে এ অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এইডস আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে ১২ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও চারজন নারী।

সংস্থাটির রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছর ২১ পুরুষ, ১৫ নারী ও একজন হিজড়া নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়। আর ২০০৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা সংস্থাটির প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই করেছেন এবং তাদের তথ্যগুলো সঠিক বলে দেখতে পেরেছেন।

মুক্ত আকাশের এক মুখপাত্র জানান, অভাবের তাড়নায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ কাজের আশায় বছরে তিন থেকে চার বার ভারতে যান। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা এ অঞ্চলে এইডস ছড়াচ্ছেন। বিশেষ করে বেনাপোল, চৌগাছা ও খুলনা শহরে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (খুমেক) সূত্রে জানা যায়, শুধু খুমেকে এ বছর এইচআইভিতে নতুন আক্রান্ত হয়ে ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন।

মুক্ত আকাশ বাংলাদেশের সমন্বয়কারী রেহেনা বেগম জানান, এ সংস্থার পক্ষ থেকে মরণব্যাধি এইডস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের পুষ্টি ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

-বাসস।