দেশের শিক্ষা বাজেট নিয়ে ইবিতে উন্মুক্ত আলোচনা

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫৭:অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

অনি আতিকুর রহমান, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাবনায় শিক্ষা বাজেট জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেক্ষিত’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন’ ইবি সংসদ বুধবার বেলা ১১টায় টিএসসিসির করিডোরে এ আলোচনার আয়োজন করে।

ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি. কে সাদিকের সঞ্চালনায় সভায় বাজেট নিয়ে আলোচনা করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও কলামিস্ট আব্দুল মুঈদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুজ্জামান ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল প্রমুখ।

আলোচনায় সংগঠনটির নেতা-কর্মী ও শিক্ষার্থীরা বাজেট নিয়ে তাদের মতামত উপস্থাপন করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে যে বাজেট দেয়া হয়েছে তাতে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে। শিক্ষাকে ২৮টি খাতের সাথে মিশ্রণ করা হয়েছে। আর্মিদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিখাত, এমনকি রূপপুরের পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকেও কৌশলে এই খাতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল, ভূটান এমনকি পাকিস্তানের চেয়েও শিক্ষাখাতে আমাদের দেশের বরাদ্দ কম। যে বাজেট দেয়া হয় তা একাডেমিক উন্নয়ন বা গবেষণার চেয়ে অবকাঠামো উন্নয়নসহ অন্যান্য কাজে বেশি ব্যয় করা হয়। এবারের বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণার জন্য মাথাপিছু এক হাজার টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে। যা দিয়ে কার্যত কোন গবেষণাই সম্ভব নয়।

শিক্ষাখাতে সরকারকে ব্যর্থ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনাকে অভ্যন্তরীণ আয়বৃদ্ধির নাম করে প্রাইভেটাইজেশনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এই খাতে মোট বাজেটের কমপক্ষে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাকে পণ্য বানানো হয়েছে। ফলে সময়ের পরিক্রমায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি শিক্ষাকার্যক্রমকে বিষিয়ে তুলছে। যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারই গতানুগতিক বাজেট পেশ করে। শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে কেমন বাজেট প্রয়োজন সেই আলোচনা কেউ করে না।

এ অবস্থায় শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ও সদিচ্ছা শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মত দেন সভার বক্তরা।