দেশের সকল আন্দোলনে চট্টগ্রাম অন্যতম : আমু

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৯:২৫:অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশে ৬ দফার গুরুত্ব স্মরণ করলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু, বুধবার (২৬ জুন) বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাঙালির মুক্তি সনদ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে সাড়ে সাত কোটি মানুষ স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

এই চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দান থেকেই ৬ দফা দাবি উত্থাপিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিল এই চট্টগ্রামের এম এ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরীর মত নেতারা। সেদিন তাদের পরিকল্পনাতেই চট্টগ্রাম থেকে ৬ দফার ডাক উঠে।

আমির হোসেন আমু বলেন, ৬ দফার ঘোষণা উপলক্ষে চট্টগ্রামের লালদিঘীতে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল সমাবেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে দৃপ্ত কণ্ঠে বলে উঠেন, “এই চট্টগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রামের সূতিকাগার।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এই চট্টগ্রাম থেকেই সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়। সেদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মনে ভীতি জাগিয়েছিল এই চট্টগ্রাম। পাহাড়তলী জালালাবাদ পাহাড়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আক্রমণসহ সমগ্র চট্টগ্রামে বিপ্লবীরা বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে দেয়। এই চট্টগ্রামই সর্বপ্রথম স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়েছে। আর এই চট্টগ্রাম থেকেই বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদ ৬ দফার দাবি উঠেছে।

বাঙলার সকল আন্দোলনের সাথে চট্টগ্রাম জড়িয়ে রয়েছে উল্লেখ করে আমির হোসেন আমু বলেন, ২৩শে জুন যেদিন পলাশীর আম্র কাননে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়।

সেই ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতা সূর্য ছিনিয়ে আনার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ বাংলার আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়নি, এই সংগঠন বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর সংগ্রামেও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘৭৫-র ১৫ আগস্টে জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করার পরিকল্পনা শুরু হয়।

১৯৭৫’র পর অনেক মৌলভী, আলেম, ওলামা স্বাধীনতা বিরোধীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে শুধুমাত্র জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকী, শোকরানা বা দোয়া মাহফিল অংশগ্রহণের অপরাধে। সেই অপশক্তি সবসময় গণতন্ত্রের নামাবলী গায়ে জড়িয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের খেলায় মেতেছে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, নির্যাতন, অপমানসহ এহেন কোন কাজ বাকি রাখেনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেসময় নিজের পরিচয় দিতে পর্যন্ত ভয় পেত। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারবর্গকে মুখ লুকিয়ে চলতে হত। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে অনেক সংগঠন রয়েছে। কিন্তু এমন কয়টি রাজনৈতিক সংগঠন আছে যাদের নেতৃত্বে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে। একটি দেশ উন্নয়ন সূচকে বিশ্বে রোল মডেল হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই।

সমাবেশে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী চেমন আরা তৈয়ব, পটিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান, কর্ণফুলী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক চৌধুরী, আনোয়ারা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান, চন্দনাইশ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ জুনু, বোয়ালখালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন, সাতকানিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন চৌধুরী, লোহাগাড়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি নুরুল হাকিম, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি টিপু সুলতান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. জোবায়ের, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী জোবাইদা নার্গিস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।