দেশ চালাতে বয়স কোনো বিষয় না : বি চৌধুরী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৪২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮
ফাইল ছবি।

দেশ চালানোর জন্য বয়স কোনো বিষয় না বলে মনে করেন নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ৮৮ বছর বয়সী সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মতে, বাংলাদেশের মান-সম্মান যারা এনেছে তারা ২৩-২৪ বছর বয়সেই এনেছে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বি চৌধুরী বলেন, ‘তোমাদের মতো করে দেশকে ভালোবাসা, সেই ভালোবাসায় আমাদের হয়তো ঘাটতি ছিল। আজকে তোমরা সেই ঘাটতি পুরিয়ে দিয়েছ, আমরা তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’

রোববার রাজধানীর খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘প্রজন্ম বাংলাদেশ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বি চৌধুরী বলেন, ‘তোমরা ভবিষ্যতে থাকবে, দেশ তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আজকে নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করছি। ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতে।’

অনুষ্ঠানে যুক্তফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অপশাসনের বিরুদ্ধে যখন প্রজন্ম প্রতিবাদ করে তখন আমি আশাবাদী হই। একটা ভয়ের চাদর সারা দেশকে ঢেকে দিয়েছে। আবার শুনছি, কথা যতই বলেন না কেন, যা চলছে তা বদলাতে পারবেন না। এই প্রথমবার ছোট ছেলেমেয়েরা বলল যে, রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি, রাষ্ট্র মেরামত দরকার।’

মান্না বলেন, ‘আজকে যে মেসেজ দেয়া হলো, সেই মেসেজের সাথে আমি একমত। এই লড়াই যদি গড়ে তুলতে পারে, যতদিন পথ চলতে পারব ততদিন তোমাদের সঙ্গে থাকব।’

বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও প্রজন্ম বাংলাদেশের উদ্যোক্তা মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘চলমান রাজনীতি দেশের মানুষকে শুধুই হতাশা দিয়েছে, স্বাধীনতার ৪৭ বছর রাজনীতিবিদের কাছে দেশের মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আর এ হতাশা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতেই প্রজন্ম বাংলাদেশের যাত্রা।’

মাহী বলেন, ‘আজকে প্লান ‘বি’ কেন? ৪৭ বছর ধরে প্লান ‘এ’-কে জাতি ক্ষমতায় নিয়ে এসে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্লান ‘এ’ ফেল করেছে। এ কারণে আমাদের এই প্লান ‘বি’। ৯০ এর গণতন্ত্রের যাত্রায় একটি দলের সরকার দেখলাম। তারা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করেনি। ৯৬ এ পরিবর্তন এলো, সেবারও একটি দলের সরকার দেখলাম, তখনও জাতি হতাশ হলো। ২০০১ সালে জোটের সরকার দেখলাম, তারা মানুষের প্রত্যাশার কিছুই দিতে পারেনি। ২০০৮ সালে নতুন জোটে জোটে মহাজোট সরকার গঠন করল। দিন বদলের স্বপ্ন দেখাল। কিন্তু এখন আমাদের কী অবস্থা?’

সাবেক এই এমপি বলেন, ‘এরপর দেখলাম ২০১৪ সালে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত, আবার বিরোধী দল সরকারের অংশ। একের পর এক প্লান ‘এ’ ফেল করছে। এসব কারণে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার।’

মাহী বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য একটি ভারসাম্যের সরকার দরকার। আর সে কারণেই আমাদের প্লান ‘বি’। দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার রাজনীতি নিয়ে আসবে সেটাই প্লান ‘বি’। যারা চলমান রাজনীতি পছন্দ করে না তাদেরকেই আমাদের সাথে এনেছি। ৪৭ বছরের অপরাজনীতি থেকে জাতিকে বের করে আনার চেষ্টা করছি।’

এই পরিবর্তনকে সামনে রেখে আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন মাহী বি চৌধুরী। বলেন, প্রজন্ম বাংলাদেশ মনে করে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে বাদ দিয়ে তরুণরা এগিয়ে যাবে। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে থাকবে ‘রাজনীতিকে ঘৃণা করো না’ ক্যাম্পেইন। এছাড়া সোসাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেইন চলবে। প্রতিনিয়ত লাইভ থাকবে। মতবিনিয়ম করা হবে। ১০, ১১, ১২ সেপ্টেম্বর কর্মশালা হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন হবে। এটা হবে আফতাব নগরে প্রজন্ম বাংলাদেশের ক্যাম্পেইন এবং রক্তদান কর্মসূচি থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান প্রমুখ।