দেশ স্বাধীন হলে সবাই পায় সোনার খনি, আর আমরা পেয়েছি চোরের খনি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: 11:22 PM, September 14, 2019 | আপডেট: 11:22:PM, September 14, 2019
ছবিঃ সংগৃহিত

দুটো খবর কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত হলো। দুটোই আলোচিত। তবে খবর দুটোই বাংলাদেশের জন্য অসম্মান ও অমর্যাদার। একটি খবরে দেখা গেলো, বিশ্বের সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার ভিতরে ভারতে ৩৭ টি ও পাকিস্তানের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে। কতো দূর্ভাগা আমরা। অথচ, এক সময়ে আমরা মনে হয় ভুল করেই জানতাম যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড।

তবে, জ্ঞান-বিজ্ঞান গবেষণায় নাম বিশ্বের শিক্ষাঙ্গনের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও নিশ্চয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি সবাই জানতে শুরু করেছে অন্য কারণে। সেটি হলো বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগ বাটোয়ারার আলোচনা।

প্রকাশ্যে এমন আলোচনা বোধ হয় কখনো কোন দিন শোনা যায়নি। বিশ্বের তাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনা হয় সেখানকার শিক্ষা ও গবেষনার মান নিয়ে। আর বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এখন প্রতিদিন আলোচনা হচ্ছে সেখানকার দুর্নীতি বিষয়ে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অভিযোগ করছে, ভিসির স্বামী আর ছেলে প্রকল্পের টাকার কমিশন নিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করেছে। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিকে ঈদের আগে এক কোটি ৬০ লাখ দেয়া হয়েছে।

এটা নিয়ে সেখানে কে কতো ভাগ পাবে সেটা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। তাদেরকে ভিসি কেন জানায়নি এজন্য তারা অনুযোগ করছে। আর ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি বলছে, নেতাদের এসব কথা বানোয়াট। তারা কোন টাকা পায়নি।

ভিসি বলছেন, রাব্বানী ও শোভন প্রকল্পের টাকার ৪ থেকে ৬ পারসেন্ট দাবি করে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি হাসপাতালে অসুস্থ ছিলেন। সেখানে গিয়েও চাপ দিয়েছে তারা। বাসায় গিয়েও একই রকম আচরণ করেছে। কিন্তু তিনি এসব অনৈতিক কাজে রাজী না হওয়ায় তার পরিবারকে জড়িয়ে তারা মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছে।

চিন্তা করুন দেশের একটি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে কি চলছে! আর এসব দুনীতি অনিয়ম নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত আলোচনা চলছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিও ভেঙ্গে দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।

লেখক: মোস্তফা ফিরোজ , হেড অব নিউজ , বাংলাভিশন