দেড়শো বছরের মার্কিন কলঙ্কের পুনরাবৃত্তি করলেন ট্রাম্প

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১ | আপডেট: ৬:০৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

এ যেন নিছক ক্ষমতার পালাবদল নয়, ‘ট্রাম্প অধ্যায়’র সমাপ্তি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে আর কোনো প্রেসিডেন্ট একই সাথে এতটা আলোচনা আর সমালোচনার মুখোমুখি হননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে করে প্রায় দেড়শো বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এর আগে শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৬৯ সালে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের সময়।

উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে আরও যে দুইজন প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকেননি। এরা হলেন-জন অ্যাডামস ও তার ছেলে জন কুইন্সি অ্যাডামস। এবারও এই তিন প্রেসিডেন্টের পথে হাঁটলেন ট্রাম্প। তার উত্তরসূরির জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর জন্য বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকালেই ফ্লোরিডায় রওনা হবেন তিনি।

এদিকে বাইডেন ও কমলা হ্যারিসের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দায়িত্ব পড়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের উপর। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন।

মার্কিন ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, দেড়শ বছর আগে ৪ মার্চ, ১৮৬৯। ওয়াশিংটন ডিসি-র সকাল গড়িয়ে দুপুর। আর ঠিক সে সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন আগামী প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস গ্র্যান্টের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঐতিহ্য অনুসারে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর স্ত্রী উদ্বোধনের দিন সকালে হোয়াইট হাউসে নতুন প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে থাকেন। কিন্তু তিনি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

আমেরিকার ক্ষমতা হস্তান্তরের গল্পটা প্রতি চার বছর পর পর ২০ জানুয়ারিতে আসে। আমেরিকার গণতন্ত্র পরিণত হওয়ার আগে এমন ঘটনা ঘটেছে আরও দুবার। ১৮০১ সালে এই ঘটনা ঘটান জন অ্যাডামস। এর পর আবার সেই পথেই হাঁটেন তাঁর ছেলে জন কুইন্সি অ্যাডামস, ১৮২৯ সালে। অর্থাৎ ট্রাম্পসহ এবার মোট চার হলো। তবে এই ঘটনাগুলো আমেরিকার গণতন্ত্রের একেবারে শুরুর একশো বছরের।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে ২০ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় বিদায়ী রাষ্ট্রপ্রধানকে পাশে নিয়ে আমেরিকায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ঘটে, অভিষিক্ত হন নতুন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঐতিহ্যের অর্থ হলো নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সার্বভৌমত্বকে বৈধতা দেওয়া। শপথ অনুষ্ঠানে না যাওয়ার এই চারটি ঘটনার মূল কারণ হলো নির্বাচনের পরাজয় মেনে নিতে পারেননি তারা।

১৫২ বছর পর ২০২১ সালে ট্রাম্প আবারও মার্কিন ঐতিহ্যকে অস্বীকার করলেন। ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হলেও ভোট কারচুরি অভিযোগ এনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি চাই ২০ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর হোক। কিন্তু আমি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেব না।

অন্যদিকে বাইডেন জানিয়েছেন তিনি ট্রাম্পের সাথে এ বিষয়ে একমত।

গত ৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৩০৬ টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বিজয়ী হন। অন্যদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২ টি ইলেকটোরাল ভোট। তবে ভোট গ্রহণের দিন থেকে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এমনকি তার প্রচার শিবির জালিয়াতির অভিযোগ এনে একাধিক মামলা করে। তবে প্রমাণ হাজির করতে না পারায় সবগুলো মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

গত ৩ জানুয়ারি কংগ্রেস অধিবেশনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এরপর বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা চালান। ওই হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন নিহত হন। যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এরপরেই সুর নরম করে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হন ট্রাম্প। তবে তিনি বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছেন না।