দোয়ারাবাজারে দ্বিতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি লাখো মানুষ

হাবিবুল্লাহ হেলালি হাবিবুল্লাহ হেলালি

দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

গত তিনদিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দ্বিতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৯ ইউনিয়নের লাখো মানুষ। দু’দফা বন্যায় মাঠঘাট, হাওর-বাওর, জল স্থল একাকার হয়ে পড়ায় গবাদি পশুসহ সর্বক্ষেত্রেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষজন।

অধিকাংশ টিউবওয়েল পানিতে নিমজ্জিত হওয়াসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পেটের পীড়া ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বানভাসি এলাকায়। এদিকে পরপর দু’দফা বন্যায় সবক’টি সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে সকল ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া উঠতি আউশ, আমনের বীজতলা, সবজি খেত ও মাছের খামারগুলো প্রথম দফা বন্যায় বিনষ্ট হওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হন হাজারো পরিবার। তবুও ক্ষান্ত হননি কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী পরিবারগুলো। বুকভরা আশা উদ্দীপনা নিয়ে ভেসে যাওয়া পুকুরগুলোতে আবারও মাছের পোনা ছাড়েন খামারিরা, বিনষ্ট হওয়া বীজতলায় তড়িঘড়ি করে আবারও বীজ বুনেন কৃষকরা। কিন্তু বিধি বাম! দ্বিতীয় দফা বন্যায় সবকিছু আবারও ভেস্তে যাওয়ায় বিশেষত চড়া সুদে ঋণ গ্রহিতারা এখন চোখে সর্ষেফুল দেখছেন তারা।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ভারি বর্ষন অব্যাহত থাকায় সুরমাসহ উপজেলার সকল নদনদী, হাওর, খাল-বিলের পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘরে হাটু ও কোমর পানি লেগে আছে। অনেক পরিবারের উঁনুনে হাড়িই বসছেনা। ঢলের তোড়ে অনেক কাাঁচা ঘরদরজা ধসে গিয়ে পানিতে ভেসে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা বলেন, বন্যা মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিংসহ কন্ট্রোলরুম খোলা রয়েছে। উপদ্রæত এলাকা পরিদর্শন ছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ বানভাসিদের মাঝে শুকনো খাবার প্যাক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দফা বন্যার রেশ কেটে উঠার আগেই সপ্তাহকালের ব্যবধানে ফের বন্যা শুরু। এবারের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ত্রাণ বিতরণসহ আমাদের সকল তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ণের জন্য আবারও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।