ধর্মপাশায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই জমজমাট গরুর হাট

মোঃ ইমাম হোসেন মোঃ ইমাম হোসেন

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০ | আপডেট: ৭:০৫:অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০

হাওরাঞ্চলের সর্ব বৃহৎ গরুর হাট হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদর বাজারে অবস্থিত এ গরুর বাজারটি করোনাকালীন লকডাউনের কারণে দীর্ঘ ৫৩দিন বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই জমজমাট ওই গরুর হাট বসেছিল।

আর দীর্ঘদিন পর ওই বাজারে গরুর হাট বসায় হাজার হাজার গরুর পাশাপাশি মানুষজনদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। গরু ব্যবসায়ী ছাড়াও স্থানীয় লোকজন গবাদি পশু নিয়ে ভোর থেকে এখানে চলে আসেন। সারাদিন থেমে থেকে বৃষ্টি হলেও জমে উঠেছিল গবাদি পশু বেচাকেনা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা রা মাস্ক ব্যবহার নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা ছিল না। পরিবেশটি দেখে মনে হচ্ছিল করোনাভাইরাস বলতে কিছু আছে বলে এখানকার লোকজনের জানা আছে বলেও মনে হচ্ছিলনা। আর এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি যথাযথ ব্যবস্থা।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ সব ক’টি উপজেলাই লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে উপজেলা প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজনকে ঘর থেকে বের না হওয়াসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলকে চলাচল করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানকার ১০টি ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়। বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক যান চলাচলও।

সবকিছু ঠিকঠাকমতো চললেও সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউনকে শিথিল করা হয়। আর এই সুবাধে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে স্থানীয় এলাকার লোকজনসজহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাকে করে গরু নিয়ে আসা হয় হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ওই গরুর হাটে। সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও এসব উপেক্ষা করেই জমেছিল গরুর হাট। তবে গরুর হাটে আসা কোনো মানুষকেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি।

ওই গরুর হাটে একটি গাভী কিনতে আসা পাশের বারহগাট্টা উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহীন মিয়া বলেন, একটি গাভী কেনার জন্য এই গরুর হাটে আসছিলাম। কিন্তু এখানে গবাদি পশুসহ মানুষজনদের ভীড় আর ঠেলাঠেলি দেখে করোনার ভয়ে আমার আর গাভী কেনা হলোনা।

গরুর হাটে আসা মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, লোকজনদেরকে দেখে মনে হয়েছে করোনা ভাইরাস নামক কোনো ব্যাধি পৃথিবীতে নেই। মানুষজনদের ঠেলাঠেলির কারণে সামাজিক দূরত্ব মানাতো দূরের কথা কোনো বাজারে আসা খুব কম সংখ্যক লোককেই মাস্ক ব্যবহার করতে দেখেছি। তবে তাদের মধ্যেও প্রায় সবাই মাস্ক মুখে না দিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ওই হাটে করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই এসব বিষয়ে ওই হাটে প্রশাসনের নজরধারী বাড়ানো খুবই জরুরী ছিল বলে আমি মনে করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান শুক্রবার বিকালে বলেন, মূলত আমি এখানে নতুন এসেছি। এখানকার হাট বারসহ অনেক কিছুই আমার জানা নেই। গরুর হাটে এতো লোকের উপস্থিতির বিষয়টি আগে কেউ আমাকে জানায়নি। মানুষজন যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করেন সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বরকম প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। আগামী হাটবারে যাতে এমনটি না হয় এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।