ধর্মপাশায় ৪৭টি স্কুলের মধ্যে ১৬টিতেই শতভাগ অকৃতকার্য

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩৫:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮
ফাইল ছবি

মোঃ ইমাম হোসেন, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের প্রাথমিক শিক্ষা সমপানী (পিইসি) পরীক্ষায় ৪৭টি ‘আনন্দ স্কুল’ থেকে চলতি বছরে ৬৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা।

কিন্তু এর মধ্যে পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে ২টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ‘আনন্দ স্কুলের’ ২০ ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়ার পর পরীক্ষার তৃতীয় দিন ভুয়া হিসেবে ধরা পড়ার ভয়ে আরো ৯৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে।

গত সোমবার প্রকাশিত প্রাথমিক শিক্ষা সমপানী (পিইসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। এর মধ্যে উপজেলার ৪৭টি আনন্দ স্কুলের মধ্যে ১৬টি আনন্দ স্কুল থেকে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও পিইসি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হতে পারেনি। তবে ওই ১৬টি স্কুলের মধ্যে খয়েরদির দক্ষিণ আনন্দ স্কুলের ২২জন শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চলতি বছরে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমপানী পরীক্ষায় অংশ নিতেই পারেনি। ফলে ১৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ওই বিদ্যালয়টিও শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলায় রস্ক প্রকল্পের অধীনে ৪৭টি আনন্দ স্কুলের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেলকরা স্কুল গুলো হচ্ছে, আবুয়ারচর আনন্দ স্কুল, আতকাপাড়া আনন্দ স্কুল, কাবিলখা নোয়াগাঁও আনন্দ স্কুল, বেখইজোড়া আনন্দ স্কুল, সুনুই উত্তরপাড়া আনন্দ স্কুল, কামাউড়া আনন্দ স্কুল, খয়েরদিরচর দক্ষিণ আনন্দ স্কুল, জলুসা শাহাপুর আনন্দ স্কুল, মজলিসপুর আনন্দ স্কুল,নগদাপাড়া আনন্দ স্কুল,আবিদনগর আনন্দ স্কুল, চামরদানী আনন্দ স্কুল, ফাতেমানগর আনন্দ স্কুল, মাটিকাটা আনন্দ স্কুল, রাজেন্দ্রপুর আনন্দ স্কুল ও জয়শ্রী আনন্দ স্কুল।

এ ব্যাপারে খয়েরদিরচর দক্ষিণ আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা তামীমা চৌধুরী বলেন, আমাদের স্কুল থেকে ২২জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ডিআরভুক্ত করা হয়েছিল। আমি ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর সোহেলী আক্তার ম্যাডামকে পিইসি পরীক্ষায় আমার বিদ্যালয়ের ২২জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আমার কাছে দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করলেও তিনি তা দেননি। এই
অবস্থায় আমার স্কুল থেকে একজন শিক্ষার্থীও পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারের কাছে আমি ঘটনাটি লিখিত ভাবে জানিয়েছিলাম।

আতকাপাড়া আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা পপি আক্তার বলেন, রস্ক প্রকল্পের প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী সোহেলী আক্তার ম্যাডাম আমাকে সবসময় নানাভাবে চাপের মুখে রেখেছিলেন। ফলে আমরা সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করতে পারিনি । তাই এবারে পিইসি পরিক্ষায় এমন ফলাফল হয়েছে।

রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর (টিসি) সোহেলী আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল মিয়া আনন্দ স্কুলের ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ধর্মপাশা উপজেলায় রস্ক প্রকল্পের ট্রেনিং কো অর্ডিনেটর মোছা. সোহেলী আক্তারের জন্যই উপজেলায় ৪৭টি আনন্দ স্কুলের মধ্যে ১৬টি আনন্দ স্কুলের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।